সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে সৌহার্দ্য ফার্মেসিতে চুরি হওয়া  ১৭ লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার হয়েছে গোবিন্দগঞ্জে গ্রেফতার ৪  হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ প্রিজনভ্যান থেকে পালানো ‘পিচ্চি রাজার’ সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী পিরোজপুরে নতুন ডিসি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন গোলাম রব্বানী ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে কুলিক নদীর কুলে কুকুরের মুখ থেকে নবজাতক উদ্ধার পরকীয়ার অভিযোগ, একের পর এক সংসার ভাঙার গল্প মহিদুলকে ঘিরে বায়েজিদ সাংবাদিক ফোরামের আত্মপ্রকাশ, আহ্বায়ক আলী আহমদ শাহিন, সদস্য সচিব মুজিব উল্ল্যাহ তুষার জমকালো আয়োজনে ‘দৈনিক ঘোষণা’র প্রধান নির্বাহী সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলামের জন্মদিন উদযাপন শিক্ষা ফলাফল নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার পাঠ চট্টগ্রাম মডেল স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক সংলাপ

পাকিস্তান থেকে নারী পাচার চিনে

  • আপডেট সময় রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১০.০১ পিএম
  • ৩৩৭ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তান থেকে চিনে দেদার নারী পাচার হচ্ছে। দালালরা চিনা ‘পাত্রে’র কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার নিয়ে পাকিস্তানি কিশোরী ও মহিলাদের ‘পাত্রস্থ’ করার নামে চিনে পাঠাচ্ছে। ২০১৮ থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত ওই পাচার চক্রের শিকার হয়েছেন ৬২৯ জন পাক মহিলা। তদন্তকারী ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে এই ঢালাও নারী পাচারের কথা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের কানে পৌঁছছে। কিন্তু চিনের সঙ্গে দহরম মহরমে চিড় ধরার ভয়ে পাক সরকার রয়েছে ‘নিধিরাম সর্দার’ হয়ে।

কোনও তদন্ত শুরু হলে তা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। মামলা হলে আদালতকেও প্রভাবিত করা হচ্ছে। ওই সব মামলায় অভিযুক্ত ৩১ জন চিনা নাগরিককে গত অক্টোবরেই বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছে ফয়জলাবাদের একটি আদালত। তাদের চিনে পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)’-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে এই তথ্য মিলেছে। সেই রিপোর্ট বলছে, দালালরা এই ভাবে ২০১৮-র গোড়ার দিক থেকে এ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৬২৯ জন পাক কিশোরী ও মহিলাকে চিনে পাচার করেছে। বিয়ে দেওয়ার নামে।

পাকিস্তানের ‘ফেডারাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)’-ই ওই তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে কাকে কাকে কবে বিক্রি করে চিনে পাঠানো হয়েছে, তাঁরা চিনে গিয়ে কবে বিয়ে করেছেন, এখন কোথায় রয়েছেন, তাঁদের কোন কোন পেশায় নিয়োগ করা হয়েছে, এফআইএ-র কাছে সে সবের খুঁটিনাটি তথ্য রয়েছে। তবে ‘এফআইএ-র এমন কোনও তালিকার কথা জানা নেই’ বলে চিনের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে।

তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, এক এক জন পাক মহিলা-পিছু চিনা ‘পাত্র’দের কাছ থেকে দালালরা ৪০ লক্ষ থেকে ১ কোটি পাকিস্তানি টাকা কামিয়েছে। আর ‘নির্ঝঞ্ঝাটে’ মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের মা-বাবাদের পকেটে দালালরা গুঁজে দিয়েছে বড়জোর ২ লক্ষ পাকিস্তানি টাকার ‘ঘুষ’। তার পর পাচার করা সেই পাক মহিলাদের চিনে নিয়ে গিয়ে নামানো হয়েছে দেহব্যবসায়। পাচারের জন্য টার্গেট করা হচ্ছে পাকিস্তানে অর্থনৈতিক ভাবে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মহিলাদের।

চিন ও পাকিস্তান, দালালরা রয়েছেন দু’দেশেই। নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ রেখেই তাঁরা নারী পাচারের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পাক তদন্তকারীদের এক জন এপি-কে জানিয়েছেন, ‘‘তদন্ত বেশি দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপরমহল থেকে চাপ আসছে। নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রাণনাশেরও। তদন্তকারী অফিসারদের বদলি করা হচ্ছে দূরদূরান্তে। তদন্তের সময় পুলিশ যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছিল, সেই পাক মহিলাদের অনেকেই পরে সংশ্লিষ্ট মামলায় গরহাজির থাকছেন বা আদালতে গিয়ে উল্টো কথা বলছেন। উপরমহলের হুমকি বা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানে খ্রিস্টানদের মানবাধিকার রক্ষায় লড়াইয়ের মুখ বলে পরিচিত সালিম ইকবাল সংবাদ সংস্থা ‘এপি’-কে বলেছেন, ‘‘পাকিস্তানের ফেডারাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির তদন্তকারী অফিসারদের উপর অসম্ভব চাপ সৃষ্টি করছে ইমরান খান সরকারের উপরমহল। অফিসারদের নানা ভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। বদলি করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলির তদন্ত বন্ধ করার জন্য।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com