মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কিশোরগ্যাং অভিযান লক্ষ্মীপুরে তিন দফায় আটক ৫৪৯, আদালতে ৮৯ ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিংয়ে আহত অভিনেতা ওমর মালিক ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’ আয়োজনে গাইবেন বন্যা, নাচবেন  শিবলী ও নীপা ঝালকাঠিতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় পালিত বাবাসহ দুজন গ্রেপ্তার, ভিডিও ধারন ও ছড়িয়ে দেয়ার ব্লাক মেইল! কাউখালীর জেসমিন ধর্ষণ ও হত্যার মূল আসামী  তাঁতীদল নেতা মানিক গ্রেফতার সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ৩ দিনব্যাপী ‘যোসেফাইট টেক কার্নিভাল’ সম্পন্ন কাউখালীতে গৃহবধূকে হত্যা ও মালামাল লুট, ঘরে মিলল বিবস্ত্র লাশ কাউখালীতে প্রাথমিক শিক্ষক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে সৌহার্দ্য ফার্মেসিতে চুরি হওয়া  ১৭ লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার হয়েছে গোবিন্দগঞ্জে গ্রেফতার ৪  হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ

ছায়া-মিত্রতা ও আত্মনির্ভরতা—ইরান সংকটে চীন-রাশিয়ার কৌশলী অবস্থান

  • আপডেট সময় রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৬.০৬ পিএম
  • ১২৬ বার পড়া হয়েছে

তাইফুর বায়জীদ আখন্দ, ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকঃ- সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং সহস্রাধিক সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি বিশ্বরাজনীতিতে এক প্রলয়ঙ্কারী বার্তা দিচ্ছে।

তবে এই চরম সংকটের মুহূর্তে চীন ও রাশিয়ার সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে না নামা নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তার গভীরে রয়েছে এক অসাধারণ সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ। অনেকেই একে ‘নিষ্ক্রিয়তা’ হিসেবে দেখলেও, গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায় এটি আসলে ইরানকে শক্তিশালী করার এক সুদূরপ্রসারী কৌশল।

কেন সরাসরি যুদ্ধ নয়?
অনেকে মনে করেন সরাসরি যুদ্ধ মানেই হলো চীন বা রাশিয়ার যুদ্ধবিমান বা মিসাইল দিয়ে হামলা চালানো। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে এটি সব সময় সেরা সমাধান নয়। চীন ও রাশিয়া যদি সরাসরি সৈন্য পাঠাত বা নিজ দেশ থেকে হামলা করত, তবে তা ইরানকে পশ্চিমা মদতপুষ্ট কিছু দেশের মতো একটি ‘সংরক্ষিত অঞ্চল’ বা ‘অধীনস্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত করত। এতে করে ইরানের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়ত এবং দেশটির গর্বিত সেনাবাহিনী ও জনগণের মনোবল ক্ষুণ্ণ হতো।

‘প্রযুক্তিগত নোঙ্গর’ ও নেপথ্যের কারিগরঃ
বাস্তবতা হলো, চীন ও রাশিয়া ইরানকে একা ফেলে যায়নি। তারা ইরানের জন্য যা করছে, তা সরাসরি যুদ্ধের চেয়েও কার্যকর। বর্তমানে রাশিয়া ইরানকে S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং Su-35 ফাইটার জেটের মতো আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সামরিক ভারসাম্য রক্ষা করছে। চীন ইরানকে দিচ্ছে উন্নত স্যাটেলাইট ইন্টেলিজেন্স এবং গাইডেন্স সিস্টেমসহ HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও আধুনিক যুদ্ধবিমান। একইসাথে ধারণা করা যায়— চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও ক্রমশ আরও নিখুঁত ও বিধ্বংসী হয়ে উঠছে। এই সহায়তাগুলোর কারণেই ইরান অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে একা হাতে বিশ্বশক্তির মোকাবিলা করার সাহস পাচ্ছে। এটি তেহরানকে একটি স্বচ্ছ বার্তা দিচ্ছে— “অস্ত্র আমাদের, কিন্তু লড়াইটা তোমাদের”। এর ফলে ইরানি জনগণের মধ্যে নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে যে গর্ব তৈরি হচ্ছে, তা যেকোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

সার্বভৌমত্ব ও সক্ষমতার প্রকাশঃ
ইরান কোনো দুর্বল রাষ্ট্র নয়; তাদের রয়েছে বিশাল বাহিনী এবং নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল সম্ভার। কোনো বিদেশি শক্তি যদি সরাসরি ইরানের হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করত, তবে তা ইরানি সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সক্ষমতাকে ম্লান করে দিত। বিশ্ব দরবারে তেহরানের পরিচয় হতো মস্কো বা বেইজিংয়ের ‘পুতুল’ হিসেবে। কিন্তু চীন ও রাশিয়া ইরানকে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করে দিয়েছে, যাতে ইরান নিজের শক্তিতেই প্রতিশোধ নিতে পারে। এটি প্রমাণ করছে যে, ইরান কেবল একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং তারা নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলা করতে সক্ষম একটি স্বাধীন পরাশক্তি।

কৌশলগত সুবিধা: দীর্ঘমেয়াদী জয়ঃ
সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে তা মুহূর্তেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিত, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতো। তেমনটি ঘটলে ইরানের ভূখণ্ড পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। এর পরিবর্তে একটি ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ বজায় রেখে ইরানকে পেছন থেকে শক্তিশালী করাই ছিল মস্কো ও বেইজিংয়ের মূল লক্ষ্য। তারা ইরানকে এমন সব প্রযুক্তি দিচ্ছে যা দিয়ে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক রাডার বা আমেরিকার স্টিলথ প্রযুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, চীন ও রাশিয়ার এই নীরবতা আসলে এক প্রকার ‘কৌশলগত গর্জন’। তারা ইরানকে তলোয়ার দিচ্ছে, কিন্তু তলোয়ার চালানোর অধিকার ও মর্যাদাটা ইরানের হাতেই রাখছে। এটি কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয়, বরং ইরানকে একটি সত্যিকারের স্বাধীন পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার সুচিন্তিত পরিকল্পনা। আজকের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরান যে নিজের শক্তিতে প্রতিরোধ গড়ছে, তা আগামীর পৃথিবীতে তেহরানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কেবল স্বার্থের সমীকরণে নয়, বরং সক্ষমতার লড়াইয়ে ইরানকে যোগ্য করে তোলাই ছিল বেইজিং ও মস্কোর মূল ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য।

#IranCrisis #MiddleEastConflict #Geopolitics #ChinaRussia #GlobalPolitics #MilitaryStrategy #InternationalRelations #IranDefense #StrategicBalance #WorldPolitics #SecurityAnalysis #GeopoliticalStrategy

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com