দেশে দ্বিতীয় ঢেউয়ের আস্ফালনের পর কিছুদিন ঝিমিয়ে থেকে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। সংক্রমণ এবং মৃত্যু দুটোই ঊর্ধ্বমুখী। মূলত ভাইরাসটির ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’ ছড়িয়ে পড়ছে এই মুহূর্তে। গত এক সপ্তাহের সংক্রমণ বিশ্লেষণ করে এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যাতে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে ‘আতঙ্ক’।
সংক্রমণ বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি তাদের রিপোর্টে দেশের ৬৪ জেলাকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছে- অতি উচ্চ ঝুঁকি, উচ্চ ঝুঁকি এবং মধ্যম ঝুঁকি। অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ৪০টি জেলা, উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ১৫টি এবং ৮টি জেলা রয়েছে মধ্যম ঝুঁকিতে। বান্দরবানে নমুনা পরীক্ষা খুব কম হওয়ায় জেলাটিকে হিসেবের মধ্যে রাখা হয়নি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, খুলনার ১০টি জেলাই অতি উচ্চ ঝুঁকিতে। ঢাকা মহানগরের অবস্থাও তাই। রাজধানীতে সংক্রমণ বেড়েছে ১১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। রাজশাহীর পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সংক্রমণের এমন ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এখনই পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে রিপোর্টে।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টের আগেই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য গোটা দেশে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’ দেয়ার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এই পরামর্শ সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে সরকার- গতকালই (২৪ জুন) এমনটা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘যে কোনো সময়’ শাটডাউনের ঘোষণা আসতে পারে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েল একটি সূত্র জানিয়েছে, এ নিয়ে একদমই দেরি করতে চায় না সরকার। আগামী সপ্তাহ থেকেই এটি ঘোষণা হতে পারে। শাটডাউনে জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে। যানবাহন, মার্কেট, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখতে হবে।