আল সামাদ রুবেল,বিনোদন প্রতিবেদকঃ- সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তরুন প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নিশা হক নাটকে ব্যস্ত সময় পার করছে, বেশ কিছু নাটকে কাজ করেছে তার মধ্যে এনটিভিতে প্রচারিত হয়েছে ‘মধ্যবর্তিনী’ নাটকটি। এছাড়া নাটকটি পরিচালনা করেছে তামান্না জান্নাত ও নাকটি, রচনা করেছে মুরাদ পারভেজ।
এই নাটকটিতে আরো অভিনয় করেছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপা খন্দকার, ইমতু রাতিশ, ও নিশা হক আরো অনেকে। এ ছাড়া নিশাকে এখন রাকেশ বসুর ‘ চাওয়া পাওয়া’ সিরিয়ালে দেখা যাবে।

নিশা হক বলেন,‘মধ্যবর্তিনী’তে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার কাছে সত্যিই অনেক ভালো লেগেছে। এটি মূলত একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প। এই নাটকে আমি নোরা চরিত্রটি করেছি। নোরা তুলনামূলকভাবে কম বয়সী একটি মেয়ে, যে খুব জেদি। নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে পাওয়ার ব্যাপারে তার মধ্যে একটা প্রবল জেদ ছিল। সে তার ভালোবাসাকে নিজের মতো করে পেতে চায়, নিজের জায়গা থেকে অনেক কিছু করার চেষ্টা করে। কিন্তু দিনশেষে নোরা তার ভালোবাসার জন্যই স্যাক্রিফাইস করে। চরিত্রটির এই জায়গাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।’
এছাড়া নোরার চরিত্রটি আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ, চরিত্রটির বয়স, আচরণ, জেদ, অভিমান এবং আবেগ—সবকিছু একসঙ্গে ধরে রাখার চেষ্টা করতে হয়েছে। নোরা যখন কোনো কিছু চায়, তখন সেটা পাওয়ার জন্য তার যে জেদ, আবার ভালোবাসার জায়গা থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের ইচ্ছেটাকে ত্যাগ করার যে মানসিকতা—এই দুই ধরনের অনুভূতিকে একই চরিত্রের মধ্যে ফুটিয়ে তোলাটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি চেষ্টা করেছি নোরাকে শুধু জেদি একটি মেয়ে হিসেবে না দেখিয়ে, তার জেদের পেছনে থাকা ভালোবাসা এবং আবেগটাও দর্শকদের কাছে তুলে ধরতে।
নাটকটি বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং করেছি আমরা শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি এলাকায় শুটিং করেছি। পাহাড়ি জায়গায় শুটিং করা যেমন কষ্টের ছিল, তেমনই অনেক মজারও ছিল। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পাহাড়ে কাজ করতে হয়েছে, ফলে শারীরিকভাবে অনেক সময় ক্লান্ত লাগত। কিন্তু পুরো পরিবেশটাই এত সুন্দর ছিল যে কষ্টের মধ্যেও একটা আলাদা আনন্দ ছিল। শুটিংয়ের ফাঁকে আমরা সবাই মিলে হাসি-ঠাট্টা করেছি, গল্প করেছি। দীপা আপা এবং ইমতু ভাইও আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। সহশিল্পীদের সহযোগিতা থাকলে কাজের সময়টা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের হয়ে যায়, আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।
শুটিংয়ের কিছু মুহূর্ত এখনও বেশ মনে পড়ে। বিশেষ করে কানে ফুল গোঁজার দৃশ্যটির কথা আমার খুব মনে আছে। ওই দৃশ্যটি করতে গিয়ে সেটে বেশ কিছু হাসি-মজা হয়েছিল। দৃশ্যটা যতটা সহজ মনে হয়, শুটিংয়ের সময় সেটাকে ঘিরে আমাদের মধ্যে বেশ মজার কিছু মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। এখন কাজটির কথা ভাবলে সেই দৃশ্যটার পাশাপাশি সেটের ওই হাসি-ঠাট্টার মুহূর্তগুলোও মনে পড়ে।
সব মিলিয়ে নোরা চরিত্রটি আমার জন্য একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা। চরিত্রটির মধ্যে যেমন জেদ আছে, তেমনই অনেক আবেগ এবং ভালোবাসা আছে। আর শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার মানুষটির জন্য নিজের ইচ্ছাকে স্যাক্রিফাইস করার জায়গাটা চরিত্রটিকে আমার কাছে আরও মানবিক মনে হয়েছে। নোরাকে করতে গিয়ে আমি চরিত্রটির ভেতরের আবেগগুলো নিজের মতো করে অনুভব করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি, দর্শকরাও নোরার জেদ, ভালোবাসা, অভিমান এবং শেষের স্যাক্রিফাইসটা অনুভব করতে পারবেন।
‘মধ্যবর্তিনী’র শুটিংয়ের পুরো সময়টা আমার কাছে অনেক সুন্দর কিছু স্মৃতি তৈরি করেছে। প্রচণ্ড গরমে পাহাড়ে কাজ করার কষ্ট যেমন ছিল, তেমনি ছিল অনেক আনন্দ, হাসি-মজা আর সহশিল্পীদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা। এখন দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি। তারা নোরাকে কীভাবে গ্রহণ করেন, সেটাই দেখার বিষয়। আশা করছি, নোরার গল্প এবং আমার অভিনয় দর্শকদের ভালো লেগেছে।