অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনায় তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে মামলাটি করেন মো. আকতারুজ্জামান মিয়া। মামলার আসামিরা হলেন ডা. আব্দুল ওহাব খান, ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ও ডা. মোহাম্মদ আলী।
বিষয়টি বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হারুনর রশিদ খান নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিচারক বাদীর জবানবন্দি শুনে সিআইডি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও জানা যায়, গত ৬ মে ডা. তৌফিক এনামকে ছাড়পত্র দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ৯ মে সন্ধ্যায় হঠাৎ তৌফিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি তখন ডা. ওহাব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জরুরি ভিত্তিতে ল্যাবএইড হাসপাতালে ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এরপর ল্যাবএইড হাসপাতালে ডা. স্বপ্নীলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তৌফিকের পরিবার। তিনিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখেন যে গলব্লাডার অপারেশনের সময় ভুল জায়গায় ক্লিপ লাগানো হয়েছে। এরপর ডা. স্বপ্নীল বেশি টাকার জন্য ইআরসিপি উইথ স্ট্যাংটিং করে ব্যর্থ চেষ্টা করেন। যে কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে।
আরজি থেকে আরও জানা যায়, ডা. ওহাব জরুরি ভিত্তিতে বিআরবি হাসপাতালের প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলীর কাছে পাঠান। ডা. ওহাব ও ডা. স্বপ্নীল দুজনের পরস্পর যোগসাজশে ডা. তৌফিককে অপর আসামি ডা. মোহাম্মদ আলী কাছে পাঠানো হয়। ডা. মোহাম্মদ আলী গত ১২ মে জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে বিআরবি হাসপাতাল ভর্তি করান।
এরপর ডা. মোহাম্মদ আলী রোগীর স্বজনদের বলেন, রোগীর অবস্থা ভালো না জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে। তার আগে যে দুজন অপারেশন করেছেন সেখানে অবহেলা ছিল। জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে অপারেশন করতে হবে অন্যথায় রোগীকে বাঁচানো যাবে না।
আর্জিতে আরও বলা হয়, এরপর ৩০ মে ডা. তৌফিককে ডা. মোহাম্মদ আলীর মাধ্যমে বিআরবি হাসপাতালে অপারেশন করানো হয়। প্রথমে তৌফিকের পরিবারকে জানানো হয় অপারেশনে তিন ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হবে। তিন ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করার পর আবারও ৪ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন বলে জানান ডা. মোহাম্মদ আলী। রক্ত না দিতে পারলে রোগীকে বাঁচানো যাবে না। এরপর হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ডা. তৌফিকের স্বজনদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ডা. তৌফিক এনাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় বাদী গত ১৫ জুন থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না গ্রহণ করে আদালতে আসার পরামর্শ দেন। এরপরে বাদী আদালতে এসে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪-ক/৩৮৬/৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।