টার্গেট করা ব্যক্তিকে এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করে তারা। দফায় দফায় রেকি করার পর হয় আটকের পরিকল্পনা। নির্দিষ্ট দিনে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেয়া হতো।
রাজধানীর দক্ষিণখানে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ডাকাতির ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, মহানগর এবং জেলা পুলিশের পোশাক পরেই অভিযুক্তরা এই অপকর্ম করছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ১১ জুন ১১টা ৫৫ মিনিটে দক্ষিণখানের বাসা থেকে বের হন ব্যবসায়ী শরীফ শহীদুল ইসলাম। একটি অটোতে তিনি আশকোনায় পৌঁছলে পুলিশ লেখা একটি মাইক্রোটি তার অটোর গতিরোধ করে।
পুলিশের পোশাক পরা দুইজন ব্যক্তি এবং সাদা পোশাকের একজন গাড়ি থেকে নেমে শরীফকে মাইক্রোতে তুলে নেয়। কেন তাকে আটক করা হচ্ছে জানতে চাইলে, তারা জানায় তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
এরপর শরীফের সঙ্গে থাকা সতেরো লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ১টা ৪৫ মিনিটে তাকে ৩শ’ ফুট এলাকায় নামিয়ে দেয়া হয় তাকে।
ব্যবসায়ী শরীফ জানান, তার ব্যাগে থাকা ১৭ লাখ টাকা এবং মোবাইল নিয়ে গেছেন অভিযুক্তরা।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতিতে জড়িত এই চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত এক বছরে চক্রটি ঢাকাসহ সারাদেশে এমন বহু ঘটনায় মানুষের কয়েক কোটি টাকা ডাকাতি করেছে। চক্রের সদস্য আবুল কাশেম ২৭ বছর ধরে এই অপরাধে জড়িত।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, কিছুদিন আগে ডাচ বাংলা ব্যাংকে যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে- সেখানেও এবারের আটকদের মধ্যকার কয়েকজন ছিলো।
পুলিশ বলছে প্রতিদিন প্রচুর টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হন কিংবা ব্যাংক থেকে তোলা ব্যক্তিরাই মূলত এদের টার্গেট।
হারুন অর রশিদ বলেন, কেউ যখন টাকা তোলে তখন একটা গ্রুপ তাকে ফলো করে, আরেকটা গ্রুপ গাড়িতে বসে থাকে পুলিশের ড্রেস পড়ে। তারা ভিক্টিমকে গাড়িতে তুলে টাকা নিয়ে চলে যায়।
এতো নিখুঁত পোশাক, আসল হ্যান্ডকাফ তারা কীভাবে সংগ্রহ করছে সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।