পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ- পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠীতে নিজ ঘরে মধ্যবয়সী এক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় নিহত জেসমিনের কথিত দ্বিতীয় স্বামী মূল আসামি পিরোজপুর জেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদারকে মাদারীপুর থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৮। গ্রেফতারের পর আসামিকে রবিবার দিবাগত রাতে কাউখালী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাতে জেসমিন বেগম (৫০)কে ধর্ষণ ও হত্যা করে তার ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। সকালে স্থানীয় এক কিশোর ওই বাড়িতে সুপারি পারতে এসে নারীকে ডাকাডাকি করে কোন সারা শব্দ না পেয়ে সে ঘরের ভিতরে খাটের উপরে গৃহবধূর বিবস্ত্র লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
নিহত জেসমিন বেগম একই গ্রামের মৃত: আফজাল খানের বড় মেয়ে এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কেরামত আলীর স্ত্রী। কয়েক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতে করতেন।
নিহত জেসমিন পরিবারের কেউকে না জানিয়ে তার একসময়ের ঘনিষ্ঠ পিরোজপুর জেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক, জিয়ানগর উপজেলার ভবানীপুর ঘোষের হাট এলাকার মানিক হাওলাদারকে বিয়ে করেন। কিছু দিন পরে তাদের ভিতরে টাকা-পয়সাকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
নিহতের ভাই নাজির হোসেন অভিযোগ করেন, তার বোনকে গণধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, প্রধান অভিযুক্তের কাছে তার বোন জেসমিনের প্রায় ছয় লাখ টাকা পাওনা ছিল। হত্যার পর ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
হত্যার ঘটনায় মৃত্যু জেসমিনের মেয়ে কাকন মনি বাদী হয়ে কাউখালী থানায়, ধর্ষণ, নির্যাতন করে হত্যা ও লুটপাটের মামলা করেছেন।
কাউখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এসআরবি এর সহায়তায় মামলার প্রধান আসামিকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পালানোর পথে তাকে মাদারীপুর থেকে
গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেসমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত আছ।