সোহেল রানা নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর আত্রাই ওষুধের দোকান থেকে হঠাৎ করে প্যারাসিটামল
গ্রুপের ‘নাপা’ ট্যাবলেট উধাও হয়ে গেছে। প্রচুর ব্যবহৃত এ ওষুধটি পাওয়া না যাওয়ায় বিপাকে
পড়েছেন মানুষ। সম্প্রতি উপজেলায় জ্বর-সর্দি বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকের কাছে গেলেই পরামর্শ
দিচ্ছেন প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবনের। জানা গেছে, গত রোজার ঈদের পর থেকেই সীমান্তবর্তী
নওগাঁ জেলায় বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। একই সাথে বেড়েছে জ্বর, সর্দি কাঁশিতে আক্রান্ত রোগীর
সংখ্যাও। আর এই সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন ওষেধের দোকানীরা নাপা ট্যাবলেট গুদামজাত করে কৃত্রিম
সংকট করেছে। স্থানীয় আবুল কাশেম, জসিম উদ্দিন জানান, কিছুদিন ধরে জ্বর সর্দি, কাশিতে
আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এই অঞ্চলে। এছাড়াও শরীরের ব্যাথাতেও এই ওষধ খাওয়াহয়। আর জাতীয়
রোগে চিকিৎসাকের কাছে গেলেই পরামর্শ দিচ্ছেন প্যারাসিটামল জাতীয় ওষধ সেবনের। তবে
ফার্মেসিগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না নাপা ট্যাবলেটের। ওষুধ ব্যবসায়ী করিম হাসান বলছেন, গত
কয়েকদিন সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও গলাব্যাথার ওষধ বিক্রয় হয়েছে স্বাভাবিকের চাইতে কয়েকগুণ
বেশি। এদিকে কোম্পানি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে ‘নাপা’ ট্যাবলেটের সঙ্কট দেখা
দিয়েছে। একই গোত্রের অন্য ওষুধ থাকলেও রোগীদের শুধু নাপা ট্যাবলেটেরই চাহিদা। করোনার সময়
প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধের বিক্রি বেড়ে যায়। এছাড়াও কিছু লোক দরকারের চেয়ে বেশি ওষুধ কিনে
ঘরে রেখে দেওয়ার ফলে এ সংকট দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের আত্রাই
উপজেলা প্রতিনিধি মো. রাজু জানান, কাঁচামাল সঙ্কটে ‘নাপা’ ট্যাবলেটের উৎপাদন কমে গেছে।
এ কারণে অর্ডার নেওয়া সাময়িক বন্ধ আছে। তবে প্যারাসিটামল গ্রুপের ‘নাপা সিরাপ’; ‘নাপা
এক্সট্রা’; ‘নাপা এক্সটেন্ড’ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই ‘নাপা’ ট্যাবলেটের সঙ্কট কেটে
যাবে। আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রোখছানা হ্যাপি বলেন, শুনেছি বাজারে
প্যারাসিটামল গ্রুপের ‘নাপা’ ট্যাবলেট পাওয়া যাচ্ছে না। করোনা মহামারিতে এ জাতীয় ওষুধের
ব্যবহার বেড়ে গেছে। তবে বাজারে প্যারাসিটামল গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের কোনো
সঙ্কট নাই।