শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কাউখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ হরিণধারা-গোপালপুর সড়ক: খালের পেটে বিলীন হওয়ার পথে  গ্রামের যাতায়াতের মাধ্যম পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’ মালিবাগে ‘কাচ্চি সরদার’-এর উদ্বোধন করলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জে কে শান্ত ইতালি পাঠানোর নামে মালয়েশিয়ায় পাচার ও অর্থ আত্মসাৎ: চক্রের হোতাসহ গ্রেফতার ২ যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। –বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জেএসএস চট্টগ্রাম মহানগরের অভিষেক প্রস্তুতি, কমিটি গঠন ও আলতাফ হোসেনের জন্মদিনে দোয়া কিশোরগ্যাং অভিযান লক্ষ্মীপুরে তিন দফায় আটক ৫৪৯, আদালতে ৮৯ ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিংয়ে আহত অভিনেতা ওমর মালিক ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’ আয়োজনে গাইবেন বন্যা, নাচবেন  শিবলী ও নীপা

যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের আশ্রয় শিবিরে অভিভাবকহীন শিশু কিশোরদের বৈধতার পথ

  • আপডেট সময় বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১, ১২.৪১ পিএম
  • ২১৯ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে আসা হাজার হাজার অভিভাবকহীন শিশু কিশোর। অন্য সবাইকে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়া বা ফিরে যাবার কথা বলা হচ্ছে বাইডেন প্রশাসনের তরফ থেকে। তবে অভিভাবকহীন শিশু কিশোরদের রাখা হচ্ছে আশ্রয় শিবিরে। তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেয়া হবে।ষোল বছর বয়েসী হোসে লুইস তাদের একজন।

লুইস বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিমান, বাস নিয়ে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকে। উদ্দেশ্য , বাবা ম্যার সঙ্গে সাক্ষাৎ। তার যাত্রা শুরু হয়েছিল ইকুয়েডরের সারাগুরো থেকে। হাজার হাজার অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের মতোই একজন সে। এই দীর্ঘ যাত্রায় কেউ তাকে গাইড করতে বা সুরক্ষার কথা বলেনি।

লুইস বলেন, আমার মা এবং বাবার সাথে দেখা করাটা, আমার জন্যে আজ সবচেয়ে ভালো ঘটনা।

লুইসের বয়স যখন তিন বছর তখন তাঁর বাবা-মা ইকুয়েডর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। হোসে লুইসকে রেখে আসেন তার দাদা-দাদির সাথে। আপনি যখন সন্তানের সাথে পিতামাতাকে বহু বছর পড় মিলিত হবার সুযোগ দেন, তখন যে সুখ সেটা অনুভব করা সবচেয়ে ভাল অনুভূতি। কারণ তারাই আপনার জীবন দিয়েছে, জন্মদাতা। তারা আপনাকে জীবনকে সামনে এগিয়ে নিত্যে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে।

অভিভাবকহীন অপ্রাপ্ত বয়স্করাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনার অনুমতিপ্রাপ্ত একমাত্র শ্রেণী। বছরের শুরু থেকে কয়েক হাজার হাজার মানুষ যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করেছে। অনেকেই বলেছেন তারা অপরাধ ও সহিংসতা থেকে বাঁচার জন্যে পালিয়েছেন। অনেকেই নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জীবনের প্রত্যাশা করছেণ। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে আশ্রয় দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফেডারাল কর্তৃপক্ষকে।

ডিলান কর্পেট, হোপ বর্ডার ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক পরিচালক। তাঁর মতে, “বাচ্চারা যখন সীমান্ত অতিক্রম করে তখন প্রায়শই তারা সীমান্ত রক্ষীদের কাছে ধরা পড়ে যায়। বর্ডার প্যাট্রোল তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে সুরক্ষা দেয় এবং তাদের স্বাস্থ্য ও মানব পরিষেবা বিভাগের হেফাজতে সোপর্দ করে।

ওইসব অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কিছু কিছু ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আচরণ করা প্রয়োজন। বাইডেন প্রশাসন তাদের প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে একই আশ্রয় কেন্দ্রে তিন দিনের সীমা টেনে দিয়েছে। তারপর তাদেরকে বিশেষ আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়।

বেকি ওলোজিন, ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “নব্বইয়ের দশকে ফ্লোরস নামে পরিচিত একটি মামলা ছিল, যাতে বাচ্চাদেরকে নিয়মিত অভিবাসন আটক কেন্দ্রে প্রাপ্তবয়স্কদের সাথে রাখার অভিযোগ ছিল। বাচ্চাদের সেখানে দীর্ঘ সময়, কয়েক মাস রাখা হোতো। মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ মূলত কারাগারে বাচ্চাদের রাখার নিয়ম নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক ঘাঁটি, কনভেনশন সেন্টার এবং হোটেল কমপ্লেক্সকে জেমনভাবে জরুরি স্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়; বাইডেন প্রশাসন তেমনিভাবেই কিশোর আশ্রয় কেন্দ্রের সুবিধাগুলি প্রসারিত করতে নির্দেশ দিয়েছে। তদুপরি, তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের বাবা মা বা আত্মীয়দের সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদেরকে ঠিকভাবে যত্ন করার কথা বলা হয়েছে।

টনা ব্রাউন বৈথনি ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিসেসে গ্লোবাল শরণার্থী এবং অভিবাসী সেবার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। এমন বাচ্চাদের পরিচর্যা করেন তিনি। “আমরা বাচ্চাদের জন্য সেই পরিষেবা দিতে পারি কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে প্রতিটি শিশু নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার দাবিদার, যতক্ষণ না তারা তাদের পরিবারের সাথে পুনরায় মিলিত হয়

কিছু আমেরিকান পালক বাবা-মা হিসাবে স্বেচ্ছাসেবী হয়ে অভিবাসী বাচ্চাদের দেখাশোনা করে। কিম এবং জেসন পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসকারী ফসটার প্যারেন্ট; “আমি যখন প্রথমবার তাদের আশ্রয় দেই তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে তারা কতটা আসহায়, তাঁদের সত্যিকার পরিচর্যা দরকার” “এখানে আসার পরে আমরা তাদের জন্যে পোশাক কিনি, কারণ সাধারণত, তারা কেবলমাত্র এক পোশাকেই একটি ব্যাগে কিছু জিনিস নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।

করোনভাইরাস মহামারীর কথা বলে সাবেক ট্রাম্প প্রশাসন আশ্রয় প্রার্থনার সব আসবেদন স্থগিত করেছিল। বাইডেন প্রশাসন সেই নীতিটি বলবত রাখলেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ছাড় দিয়েছে।

ডিলান কর্পেট এ প্রসঙ্গে বলেন, “সীমান্ত রক্ষীরা এতো শিশুদের দেখভাল করতে সমর্থ নন; কারণ তাদের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। যদিও শিশুদের ৭২ ঘণ্টার বেশি সীমান্ত আশ্রয় কেন্দ্রগুলতে রাখার নিয়ম নেই; কিন্তু বাস্তব আবস্থা হচ্ছে বিপুল সংখ্যক শিশুকে অনেক বেশি সময় সেখানে রাক্তে হচ্ছে। সীমান্ত রক্ষরা তাদের যত্ন নেয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষিত নয়।

হোসে লুইসের মতো যেসব অভিচাবখিন অপ্রাপ্ত বয়স্ক মোটামুটিভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করছে, তাদের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে অপেক্ষা করছে অনেক নতুন সম্ভাবনা। যে সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে লুইস নিজেও, আমার স্বপ্ন হল পড়াশোনা করা এবং একজন সফল অর্থনীতিবিদ হওয়া। আমি অর্থনীতি পড়তে চাই।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com