ঢাকা-৭ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমকে দেওয়া ১৩ বছরের সাজার বিরুদ্ধে নতুন করে আপিল শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১১ জানুয়ারি আলোচিত এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে ছেলে ইরফান সেলিমের মারধরের ঘটনার পর হাজি সেলিমের এই মামলাটি আবার সামনে আসে।
২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলায় হাজি সেলিমের ১৩ বছরের সাজা হয়। সে রায় ২০১৫ সালে বাতিল হয় হাইকোর্টে। তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ আপিল বেঞ্চ মামলাটি আবার শুনানির নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে পাঁচ বছরেও এই শুনানি আর হয়নি।
গত ১১ নভেম্বর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাজি সেলিমের দুর্নীতি মামলার সব নথি তলব করার আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে ৮ ডিসেম্বর মামলার সব নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়।
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন মো. খুরশিদ আলম খান। হাজি সেলিমের পক্ষে ছিলেন সাঈদ আহমেদ রাজা।
দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘মামলার যাবতীয় নথি আমরা প্রস্তুত রয়েছে। এখন মামলার শুনানির জন্য ১১ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সব ঠিক থাকলে ওই দিন থেকে শুনানি শুরু হবে।
জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালে বিচারিক আদালত তাঁকে ১৩ বছর কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাজি সেলিম হাইকোর্টে আপিল করলে ২০১১ সালে তাঁকে খালাস দেয়া হয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে হাইকোর্টকে নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেন।
ইরফান সেলিম কাণ্ডের পর এই মামলাটি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। পরে আদালত নথি তলব করে আদেশ দেন।
গত ২৫ অক্টোবর কলাবাগান এলাকায় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে। পরের দিন হাজি সেলিমের পুরান ঢাকার বাসায় অভিযান চালায় র্যা ব। গ্রেপ্তার করা হয় ইরফান সেলিম ও তাঁর দেহরক্ষীকে।
এই ঘটনার পর হাজি সেলিমের নানা দখলের বিষয়টি সামনে আসে। নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে সরকারি খাস জমিতে তাঁর স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পুরান ঢাকায় মৌলভীবাজারে অগ্রণী ব্যাংকের দখল করে নেওয়া জায়গাও ব্যাংককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য হাজি সেলিম সেই জমি আবার দখল করেছেন।
সম্প্রতি হাজি সেলিমের মদিনা পেট্রল পাম্পেও অভিযান চালিয়ে একাংশ ভেঙে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। এই জমিটি সরকার বধির স্কুলকে বরাদ্দ দিলেও হাজি সেলিমের দখলে থাকার কারণে সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যায়নি।
হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিব্বত হল দখল করে নেওয়ার অভিযোগও আছে।