মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কিশোরগ্যাং অভিযান লক্ষ্মীপুরে তিন দফায় আটক ৫৪৯, আদালতে ৮৯ ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিংয়ে আহত অভিনেতা ওমর মালিক ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’ আয়োজনে গাইবেন বন্যা, নাচবেন  শিবলী ও নীপা ঝালকাঠিতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় পালিত বাবাসহ দুজন গ্রেপ্তার, ভিডিও ধারন ও ছড়িয়ে দেয়ার ব্লাক মেইল! কাউখালীর জেসমিন ধর্ষণ ও হত্যার মূল আসামী  তাঁতীদল নেতা মানিক গ্রেফতার সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ৩ দিনব্যাপী ‘যোসেফাইট টেক কার্নিভাল’ সম্পন্ন কাউখালীতে গৃহবধূকে হত্যা ও মালামাল লুট, ঘরে মিলল বিবস্ত্র লাশ কাউখালীতে প্রাথমিক শিক্ষক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে সৌহার্দ্য ফার্মেসিতে চুরি হওয়া  ১৭ লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার হয়েছে গোবিন্দগঞ্জে গ্রেফতার ৪  হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ

প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা নওগাঁর কাঁচা মরিচ যাচ্ছে চট্রগ্রাম

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০, ৫.৩৬ পিএম
  • ৬০১ বার পড়া হয়েছে

সোহেল রানা, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বড় কাঁচা মরিচের বাজার ইশ^রলক্ষীপুর বাজার। এই বাজারকে ঘিরে এলাকার মানুষের মাঝে মরিচ চাষের অনেক পরিবর্তন এসেছে। যেখানে কৃষকের একমাত্র ভরসা ছিল ধান চাষ। সেই জমিতে এখন সারা বছর মরিচের চাষ হচ্ছে। এখানকার প্রতিটি কৃষকের মজিতেই মরিচের মাচা রয়েছে। তবে মরিচের গ্রাম বললে ভূল হবে না। কাঁচা মরিচের বাজার বসে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভরা মৌসুমে এই বাজারে প্রতিদিন ৪শ থেকে ৫শ মন কাঁচা মরিচ কেনা বেচা হয়।

ইশ^রলক্ষীপুর গ্রামের কৃষক মন্টু শেখ বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। মরিচ ভালো হয়েছিল। প্রতিদিন ৫থেকে ৬মন মরিচ উঠতো। অতিরিক্ত বর্ষার কারণে মরিচের গাছ মরে গেছে। এখন গড়ে ৫কাঠা জমিতে মরিচের চারা গাছ জিবিত আছে। সেখান থেকে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কেজি মরিচ বিক্রি করতে পারছি।

বাশবাড়ীয়া গ্রামের মরিচ চাষি জয়নাল আবেদীন বলেন, এলাকার মরিচ মহিলারা বেশী তুলে। মহিলারা সংসারের কাজ সেরে মরিচ তুলার কাজে যায়। একজন মহিলা এক মৌসুমে মরিচ তুলে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করে। কিন্তু এখন সেটা আর হচ্ছে না। কারন ক্ষেতের বেশীর ভাগ মরিচ গাছ মরে গেছে।

মরিচ কিনতে আসা ব্যাপারি খোদা বক্স জানান, ঢাকা, চট্রগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন আনাচে কানাচে আমরা এই বাজার থেকে প্রতিদিন মরিচ ক্রয় করে পাঠিয়ে দিই। যখন যে দামে বিক্রি হয় সেই দামে আমরা মরিচ ক্রয় করি।

তিনি আরো বলেন, তবে চাষিদের মরিচ বিক্রি করতে কোন অসুবিধা হয় না। বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা মরিচ কিনতে এ বাজারে আসে।

ভরাডুবা গ্রামের মরিচ চাষি নাজমুল ইসলাম জানান, তিন বছর আগে ৫বিঘা মজিতে মরিচ চাষ করতে খরচ হয়েছিল দেড় লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকাই সেই বার মরিচের ফলন ভালো হয়েছিল। এবং ভালো দাম পেয়েছিলাম। সেই বছর যাবতীয় খরচ বাদে আয় হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। তারপর থেকে প্রতি বছর কাঁচা মরিচের আবাদ করছি। কিন্তু এত টাকা আর কোন দিন চোখে দেখিনি।

তিন ভাই মোল্লা ট্রের্ডাসের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা এই হাটে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ কিনি। সেই মরিচ নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঢাকা ও চট্রগ্রমে বিক্রি করি। সারা বছর মরিচের বসে। তবে জ্যেষ্ঠ- আষাঢ় মাস থেকে শুরু হয়ে কার্তিক মাস পর্যন্ত পুরো দমে কেনা বেচা হয়।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনিসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিদিন এই বাজার থেকে ২শ মন মরিচ কিনে চট্রগ্রাম পাঠান। কোনও ঝামেলা নেই। তাই তারা এ বাজারে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ব্যবসায়ীরা এসে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে মরিচ কেনেন। মরিচের ভালো দাম পান কৃষকরা। তাই এ বাজারে দিন দিন মরিচ বিক্রি বেড়েই চলছে। কৃষকের কাছে টাটকা ও তুলনামুলক কমদামে কাঁচামরিচ পাওয়া যায়। মুনফা ভালো হওয়ায় তারা ৫ বছর ধরে এখানে মরিচ কিনতে আসেন।

মরিচ বিক্রি করতে আসা মিনহাজুল ইসলাম বাবু, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, কাঙিক্ষত মূল্য পাওয়া যায়, ওজনে কাটচুপি না হওয়া এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারা যায় তাই তারা এ বাজারে মরিচ বিক্রি করতে আসেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com