মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। –বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জেএসএস চট্টগ্রাম মহানগরের অভিষেক প্রস্তুতি, কমিটি গঠন ও আলতাফ হোসেনের জন্মদিনে দোয়া কিশোরগ্যাং অভিযান লক্ষ্মীপুরে তিন দফায় আটক ৫৪৯, আদালতে ৮৯ ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিংয়ে আহত অভিনেতা ওমর মালিক ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’ আয়োজনে গাইবেন বন্যা, নাচবেন  শিবলী ও নীপা ঝালকাঠিতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় পালিত বাবাসহ দুজন গ্রেপ্তার, ভিডিও ধারন ও ছড়িয়ে দেয়ার ব্লাক মেইল! কাউখালীর জেসমিন ধর্ষণ ও হত্যার মূল আসামী  তাঁতীদল নেতা মানিক গ্রেফতার সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ৩ দিনব্যাপী ‘যোসেফাইট টেক কার্নিভাল’ সম্পন্ন কাউখালীতে গৃহবধূকে হত্যা ও মালামাল লুট, ঘরে মিলল বিবস্ত্র লাশ কাউখালীতে প্রাথমিক শিক্ষক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

নওগাঁয় সরকারি গুদামে ধান দিতে কৃষকের অনীহা

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০, ৬.১২ পিএম
  • ৭২৯ বার পড়া হয়েছে
সোহেল রানা, নওগাঁ জেলা, প্রতিনিধিঃ
নওগাঁয় সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কৃষকেরা। ধান সংগ্রহ অভিযান শুরুর দেড় মাসে মাত্র ৩৯৪ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। গুদামে ধান বিক্রয়ের জন্য নির্বাচিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও গুদামে ধান দিতে আগ্রহী করা যাচ্ছে না তাদের কে।
স্থানীয় কৃষক ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যানা যায়, ধানের বর্তমান বাজারদর ও গুদামে ধান ক্রয়ের সরকার–নির্ধারিত দাম প্রায় সমান। এ পরিস্থিতিতে গুদামে ধান বিক্রি করে কৃষকদের তেমন লাভ থাকবে না। তার ওপর কৃষকদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করা অনেক ঝুক্কি-ঝামেলার। আর্দ্রতার কথা বলে প্রতি মন ধানে এক-দুই কেজি করে বেশি ধান নেওয়া হয়। অনেক সময় বিভিন্ন টালবাহানায় ধান ফেরতও দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান স্থানীয় বাজারে এসব ঝুক্কি-ঝামেলা নেই।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে এবং বাকি ১০টি উপজেলায় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি গুদামে ধান ক্রয় করা হবে। জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন। প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা (২৬ টাকা কেজি) দরে ১৪ শতাংশ নিচের আর্দ্রতার ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে লটারির মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪০০ এবং কৃষকের অ্যাপে আবেদন করা কৃষকদের মধ্য থেকে ২ হাজার ৯০০ কৃষককে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে জেলায় সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৯টি সরকারি খাদ্যগুদামে মাত্র ৩৯৪ টন ধান কেনা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার ১ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ৯৫ শতাংশ জমিতেই জিরা ও কাটারিভোগ জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। বাকি জমিতে সুগন্ধি ও বিআর-২৮ ধানের চাষ হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁর বিভিন্ন  হাটবাজারে বর্তমানে কেজিদরে প্রতি মণ কাটারীভোগ ৯৮০-১০৫০ টাকা, জিরা ১০৫০-১১৫০ টাকায় ও বিআর-২৮ ও বিআর ২৯ ধান ৯২০-৯৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের বুধুরিয়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ দানেশ মণ্ডল এ বছর ৪৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেন। বিঘাপ্রতি গড়ে ২০ মণ করে মোট ৯০০ মণ ধান পেয়েছেন তিনি। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য লটারিতে নাম লেখান। গুদামে ধান দেওয়ার জন্য লটারিতে তিনি নির্বাচিতও হন। কিন্তু কিছুদিন পরেই বাজারে ধানের দাম বেড়ে যায়। এখন সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে তাঁর কোনো আগ্রহ নেই।
আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের লটারি বিজয়ী কৃষক বিপ্লব কুমার বলেন ‘গুদামে যে দামে ধান বিক্রি করব, সেই দাম বাজারেই পাচ্ছি। বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে কেন গুদামে ধান দিতে যাব? আগে ধান দিতে গিয়ে ধানের রং ভালো না, আর্দ্রতা বেশি, এসব কথা বলে অনেক হয়রানি হয়েছি। লাভ বেশি হলে হয়তোবা এসব হয়রানি মেনে ধান দিতাম।’
বর্তমানে নওগাঁর কৃষকেরা সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ তেমন দেখাচ্ছেন না। গুদাম কর্তৃপক্ষ কৃষকদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ধান বিক্রির জন্য অনুরোধ জানিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছে না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com