মামুনুর রহমান খান: ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করতে যেয়ে লাঞ্ছিত হয়ে ক্ষোভ ও অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় নবম শ্রেণীর ছাত্র আশরাফুল আহমেদ বাবু।
গত শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৪টায় রাজধানীর সবুজবাগ থানার মাদারটেক বাগানবাড়ি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিন মাদারটেক নিবাসী মোঃ সজীবের নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে সানজিদা ইসলামকে বহু মালিকানাধীন ১৪১ দক্ষিণ মাদারটেক হোল্ডিংয়ে নির্মাণাধীন বাড়ীতে কর্তব্যরত কতিপয় কিছু শ্রমিক প্রায়শই উত্ত্যক্ত করে এবং অশ্লীল ইঙ্গিত প্রদান করে আসছিল।
ভুক্তভোগী সানজিদা ইসলাম বিষয়টি পাশের বাড়ী ১২৭/এ দক্ষিণ মাদারটেক নিবাসী মোঃ ফরিদ হোসেনের নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া একমাত্র ছেলে আশরাফুল আহমেদ বাবুকে (১৬) জানালে আশরাফুল ইসলাম বাবু তৎক্ষণাত উক্ত প্লটে গিয়ে এ ব্যাপারে জোর প্রতিবাদ জানায় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
এ সময় সেখানে সেই উত্ত্যক্তকারী নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকসহ প্লট মালিক দক্ষিণ মাদারটেক বাইতুন নুর জামে মসজিদের ইমাম মোঃ সানোয়ার হোসেন ও পুলিশ সদস্য জিয়াউলসহ আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
এসময় প্লট মালিকগণ আশরাফুল আহমেদ বাবুর প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত নির্মাণশ্রমিকের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করে না বরং প্রতিবাদকারী আশরাফুল ইসলাম বাবুকেই প্লট মালিকগণ ও শ্রমিকেরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং উপর্যপুরি মারধর করে তাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।
এঘটনায় তার বাবা ফরিদ হোসেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণের কাছে যেয়ে বিষয়টি অবহিত করে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন।
কিন্তু তাদের কাছ থেকে আশানুরূপ কোনো সারা পায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আশরাফুল ইসলাম বাবুর মনে প্রচণ্ড ক্ষোভ জেগে ওঠে এবং এই অপমানের গ্লানি সইতে না পেরে পরবর্তীতে গত শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তার নিজ বাড়ির উপর তলার সিলিংয়ে দড়ি বেঁধে গলায় পেচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
আশরাফুলের বাবা ফরিদ হোসেন জানান, বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় আশরাফুলকে উদ্ধার করে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় এলাকার সাধারণ জনমনে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের সঞ্চার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, শুক্রবার এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে উক্ত ১৪০ দক্ষিণ মাদারটেকের প্লট মালিক মোঃ সানোয়ার হোসেন ও অন্যান্য মালিকগণ এবং ইভটিজিংয়ে অভিযুক্ত শ্রমিক সহ অন্যান্য নির্মাণ শ্রমিকরা লাপাত্তা অবস্থায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে বায়তুন নূর জামে মসজিদের ইমাম মোঃ সানোয়ার হোসেনের সাথে মুঠোফোনে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান ইভটিজিংয়ের বিষয়টি সম্বন্ধে তিনি অবগত রয়েছেন তবে আশরাফুল ইসলাম বাবুকে মারধরের ঘটনায় সে নিজে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকৃতি জানায়। এই খবর সংগ্রহ করা পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনরকম মামলার খবর পাওয়া যায়নি।