আফগানিস্তানে কার জোর বেশি? খিদের না, বন্দুকের? আপাতত পেটের দায়-ই হার মানাল বন্দুকভীতিকে। আফগানিস্তানের শাসনভার তালিবানের হাতে চলে যাওয়ার পরই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কাজ। কিন্তু সংসার চালাতে হবে, সন্তানের মুখে তুলে দিতে হবে খাবার। সেই কারণেই এক মাস কাটতে না কাটতেই বিমানবন্দরের কাজে ফিরলেন কাবুলের ১২ জন মহিলা।
তালিবান সরকারের অধীনে অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে ১২ জন নারী কর্মী যোগ দিয়েছেন, তাঁদেরই একজন রাবিয়া জামাল। রাবিয়া তিন সন্তানের জননী। তাঁর পক্ষে আর বাড়িতে বসে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কাবুল বিমানবন্দর সচল হতেই শনিবারই বিমানবন্দরের চেকিং পয়েন্টে দেখা গেল ছ’জন মহিলাকে। নীল রঙের স্যুট পরে হাসিমুখে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন যাত্রীদের। মহিলা যাত্রীদের ব্যাগপরীক্ষা করে দেখছেন।
এই আতঙ্কের পরিবেশেও কাজে ফেরা কেন জিজ্ঞাসা করা হলে রাবিয়া জানান, ‘সংসার চালানোর জন্য টাকার প্রয়োজন। অর্থাভাব বাড়িতে সবসময় একটা অদ্ভুত চাপের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। খুবই খারাপ লাগছিল। কাজে ফিরতে না পেরে পারছিলাম না। এখন কাজে ফিরে অবশেষে ভাল লাগছে।
রাবিয়ার বোন কুদশিয়া জামালও পাঁচ সন্তানের মা এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিনি বলেন, তালিবানের ক্ষমতা দখলের পরে সকলেই চমকে গিয়েছি। আমার পরিবারও আতঙ্কিত ছিল। তাঁরা আমায় বলেছিল, কাজে যেন যোগ না দিই। কিন্তু পেটের দায়ে কাজে ফিরতে হল। আপাতত আমরা খুশি। স্বস্তিতে রয়েছি।
কাবুল বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, আফগানিস্তানের সরকার পতনের আগে ৮০ জনেরও বেশি মহিলাকর্মী কাজ করতেন। কিন্তু তালিবান কাবুল দখলের পর সকলেই কাজে আসা বন্ধ করেন। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বিমানবন্দর ফের সচল হয়েছে। আর সেই সঙ্গেই বিমানবন্দরে কাজে ফিরেছেন ১২ জন মহিলা কর্মী।
আফগানিস্তানে স্থিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহিলা প্রতিনিধি কদিন আগেই তালিবানকে সতর্ক করেছেন এই বলে যে, তালিবান কিন্তু মেয়েদের অধিকার রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি সম্প্রতি দিয়েছে, তা লঙ্ঘন করতে শুরু করে দিয়েছে!