রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কাউখালীতে ১শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবক গ্রেপ্তার রুহিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের মতবিনিময় দালালের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, সৌদিতে পড়ে আছে প্রবাসীর মরদেহ—বাবার অপেক্ষায় দুই শিশু পূর্ব বাড্ডায় জমি দখলের চেষ্টা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেঙ্গু প্রতিরোধ কিশোর গ্যাং দমনে  পিরোজপুরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা  কাউখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ হরিণধারা-গোপালপুর সড়ক: খালের পেটে বিলীন হওয়ার পথে  গ্রামের যাতায়াতের মাধ্যম পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’ মালিবাগে ‘কাচ্চি সরদার’-এর উদ্বোধন করলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জে কে শান্ত ইতালি পাঠানোর নামে মালয়েশিয়ায় পাচার ও অর্থ আত্মসাৎ: চক্রের হোতাসহ গ্রেফতার ২

আজ এক বছর মেজর সিনহা হত্যার

  • আপডেট সময় শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১, ১১.৪৪ এএম
  • ২৪২ বার পড়া হয়েছে

ওসি প্রদীপ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী না দিলেও সে যে হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত তা চার্জশিটেই প্রমাণিত হয়েছে। এখন আদালতে সাক্ষীরাই এই ঘটনা প্রমাণ করবেন। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক সাক্ষীদের হাজির করে সাক্ষ্য নেয়াটা সবচেয়ে কঠিন এবং দুরূহ কাজ। তা ছাড়া সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া যদি আরো পিছিয়ে যায় তাহলে সব সাক্ষীকে পাওয়া যাবে কিনা এটিই আশঙ্কার বিষয়। তবুও আমাদের প্রত্যাশা সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হবে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো বিচার পাব।’

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ খান হত্যার আজ এক বছর পূর্তিতে গণমাধ্যমের কাছে এমন প্রত্যাশা ও আশঙ্কার কথা জানালেন মামলার বাদি মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। গত ২৭ জুন এই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জ গঠন হয়েছে। মামলার বিচারক কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল আসামিদের উপস্থিতিতে ওই দিন মামলাটির চার্জ গঠন শেষে ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই বাদিসহ ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে লকডাউনে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ সম্ভব হয়নি।

শারমিন শাহরিয়া  বলেন, এক বছর তো হয়ে গেলো। সবকিছু ভালোভাবে এগোচ্ছিল। তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে তদন্ত সংস্থা চার্জশিট দিলো। কিন্তু চলমান কোভিড পরিস্থিতির কারণে মামলা গতি আগের মতো নেই এটা বলা যায়। তবুও চার্জশিট প্রদান এবং আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জফ্রেম হওয়াতে আমরা আশাবাদী। আমাদের প্রত্যাশা লকডাউন যখনই শেষ হবে তখন দ্রুততার সাথে যেন সাক্ষ্যগ্রহণ করে বিচারকাজ শেষ করা হয়। আমরা আশাকরি এমনটাই হবে, তবে কোভিড আমাদের মামলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওসি প্রদীপ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী না দিলেও সে অপরাধের দায় থেকে নিষ্কৃতি পাবে বলে আমার মনে হয় না। প্রদীপ সিনহা হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত। কারণ চার্জশিটে তার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ৮০-৮৪ জন সাক্ষীকে হাজির করে সাক্ষ্য নেয়া একটি কঠিন কাজ। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলতে থাকলে বিশেষ করে যদি আরো ছয় মাস বা তার চেয়েও বিলম্ব হলে অনেক সাক্ষীকে পাওয়া মুশকিল হয়ে যাবে।

এত দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষীদের রাখাটাও একটা কঠিন কাজ এবং অনেক সময় সাক্ষীদের খুঁজে পাওয়াটাও কঠিন হয়ে যায়। সব সাক্ষীকে পাওয়া যাবে কিনা নাকি একেকজন আবার একেক জায়গায় চলে যাবে। তাদের আনা যাবে কিনা। এটাই এখন আমাদের আশঙ্কা।

সাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রদান সম্পন্ন হলে আমরা ভালো একটা রায় পাব বলে বিশ্বাস করছি। তাই সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়াটি দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য আমি আবেদন করছি।
তিনি আরও বলেন, ‘দুই বোন ও একমাত্র ভাই সিনহা এবং মা বাবা। আমরা সবাই খুব ক্লোজ ছিলাম। আমাদের বাবা-মায়ের সাথে অন্য রকম সম্পর্ক ছিল। তারা আমাদের অভিভাবক ও বন্ধু ছিলেন। ২০০৭ সালে বাবাকে হারিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি। এ সময় সিনহাই আমাদের পিতার স্থান দখল করে আমাদের সাহস ও সান্ত্বনা জুগিয়েছে। এখন চোখের পানিতে এক বিশাল শূন্যতার মধ্যে কেটে যাচ্ছে সময়।

ভাইকে হারানোর শোক আমরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। বিশেষ করে আমার মা ছেলে হারিয়ে এখনো প্রায় বাকরুদ্ধ। সিনহা সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার পর মাকে প্রায়ই বলত, ‘আম্মু আজকে থেকে কিন্তু আমি শুধু তোমার সন্তান না, দেশ মাতৃকার সন্তানও। আমি যেমন তোমার সন্তান আমি দেশেরও সন্তান। তুমি সবসময় এটি মাথায় রাখবা যদি কখনো আমার কিছু হয় তুমি কখনো বিচলিত হবা না মা।’ এ কথা বলে সে আম্মুকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিল।

ছেলে যখন একজন মাকে এভাবে তৈরি করে তখন ছেলের কিছু হলে শোক সইবার ক্ষমতা তখন আল্লাহ দিয়ে দেন। সে প্রকৃতিকে ভীষণভাবে ভালোবাসত। চলত বিদ্যুতের গতিতে। যত দামি খাবার হোক না কেন সে পরিমাণের বাইরে একদম খেত না। ২৬ জুলাই ছিল তার জন্মদিন। প্রতি বছর এই দিন আমরা উদযাপন করতাম। গত বছর তার জন্মদিনে আমরা তার জন্য কেক পাঠিয়েছি।

এবার কেটেছে বিশাল শূন্যতার মাঝে। ধুমধাম করে ঘরে ঢুকে আবার বিদ্যুৎ গতিতে চলে যেত, প্রতিটি মুহূর্তকে সে কাজে লাগাত। জীবন তো আর ওভাবে চলে না আগে যেভাবে চলত। আহাজারি আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে করছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে কান্না তো দেখাতে হয়। আলটিমেটলি তার হাতেই তো চূড়ান্ত বিচার। আমার আল্লাহর কাছে ন্যায়বিচার তো পাবই।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম জানান, চলমান লকডাউনের কারণে নির্ধারিত তারিখে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মামলার কার্যক্রম আবার আগের মতোই চলবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ খান। হত্যাকাণ্ডের পর ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদি হয়ে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব-১৫।

হত্যাকাণ্ডের পর চার মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে এবং ৮৩ জনকে সাক্ষী করে আলোচিত মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা রথ্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। মামলায় অভিযুক্ত ও কারাগারে আটক থাকা ১৫ আসামি হলো- বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো: শাহজাহান, কনস্টেবল মো: রাজীব ও মো: আবদুল্লাহ পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো: নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com