সোহেল রানা,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁয় পিংকী নামে এক নারী প্রেমের ফাঁদে ফেলে নাজমুল নামের এক যুবককে অপহরন পূর্বক মুক্তিপন দাবী ও হত্যা মামলার সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ৪ জন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে। আজ রবিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয় মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে চৌকষ পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান বিপিএম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, জেলার বদলগাছী উপজেলার পূর্ব খাদাইল গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী পিংকী বেগম একজন প্রতারক এবং গ্রেফতারকৃতরা কয়েকজন মিলে কিশোর গ্যাং তৈরী করে। এর মুল হোতা পিংকী। সে মোবাইলে কথা বলে প্রেমের ফাদে ফেলে নির্জন স্থানে ডেকে এনে গ্যাং এর মাধ্যমে মোবাইল ফোনসহ টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টায় নাজমুল হোসেনকে অনেক খোজা খুজির পরও আর পাওয়া যায় না। তার ফোন বন্ধ থাকায় তাকে না পাওয়ায় এলাকায় মাইকিং করে। পিংকীর ফোন পেয়ে নাজমুল দেখা করতে ছুটে যান নারকেল বাড়ী রোডের কেসের মোড় রেল লাইনে।

সেখানে ওৎ পেতে ছিল আসামী মিশু মন্ডল, শিশু হুজাইফা ও সাজু। আসামীরা মিলে নাজমুলকে আমের ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান করার চেষ্টাকালে খুন হন। মৃতদেহ গোপন করার জন্য আসামী মিশু নিজ বাড়ী থেকে সাদা রংয়ের বস্তা নিয়ে এসে সবাই মিলে মৃতদেহ বস্তায় ভরে পাশ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার কেসের মোড়ের রেল লাইনের পাশে ডোবায় ফেলে দিয়ে তারা পরদিন সকাল সাড়ে ১০টায় নাজমুলের মোবাইল থেকে তার বাবার মোবাইলে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। মোবাইলের সুত্র ধরে আসামী পিংকী বেগমের নিকট থেকে অপহরনের ব্যবহৃত ফোন ও সীম জব্দ করে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে নিজেই পুলিশের নিকট হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে ও আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান করে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক শিশু হুজাইফা ও মিশু মন্ডলকে গত ১৯ নভেম্বর গ্রেফতার করে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আম গাছের ডাল উদ্ধার করে। তারা সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান করেন। পিংকী এপর্যন্ত ১১জনকে প্রেমের ফাদে ফেলে প্রতারনা করে সর্ব শান্ত করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নওগাঁ জেলা পুলিশ মাত্র ১০ দিনের মাথায় হত্যার রহস্য উদধাটন পুলিশের একটি বড় অর্জন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল ইসলাম, বদলগাছী থানা অফিসার ইনচার্জ চৌধূরী জোবায়ের আহমেদ, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সোরওয়ার্দী হোসেন, ডিআইও ওয়ান-১সহ জেলা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।