সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে নারীর শ্লীলতাহানি ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা প্রয়োগের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জুলিয়াস সিজার নামের এক শিক্ষার্থী। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মঙ্গলবার রাতে শাহবাগ থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুলিয়াস সিজার তালুকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ডা. মুরাদ হাসান বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্রাব করার সময়ও আমার নাই’। এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, দেশের সর্ব প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠকে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাচ্ছিল্য করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী রোকেয়া হল এবং শামসুন্নাহার হলের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা করে বলেছেন, ‘তারা রাতে নিজের হলে অবস্থান না করে বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে রাত্রিযাপন করেন’। এই বাক্য দ্বারা তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা করেছেন।
মুরাদ হাসানের বক্তব্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিও তীব্র অশ্রদ্ধা প্রদর্শিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সিজার।
তিনি লিখেছেন, বিদ্যাপীঠসমূহের প্রতি তীব্র অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে মধ্যযুগীয় কায়দায় ঘৃণার রাজনীতি করার অপপ্রয়াস দেখিয়েছেন। অন্যদিকে নারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক বক্তব্য দিয়ে তাদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা করেছেন, তিনি নারীর রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিরোধিতা প্রকাশ করেন। মুরাদ হাসানের এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামাজিকভাবে মানক্ষুণ্ন করেছে।
বেশ কয়েকদিন ধরে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আলোচনায় ছিলেন ডা. মুরাদ। এর মধ্যে ঢাবি নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও ভাইরাল হয়।
এছাড়া সোমবার সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর একটি কথোপকথন ফাঁস হয়, যেখানে তিনি অশ্লীল ভাষায় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য বলেন। ফোনে চিত্রনায়ক ইমনকে তিনি বলেন, ঘাড় ধরে যেন মাহিকে তার কাছে নিয়ে যান। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে ডা. মুরাদের শাস্তির দাবি ওঠে।
এরপর মঙ্গলবার দুপুরে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। বর্তমানে পদত্যাগপত্রটি সচিবের দপ্তর থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেয়া হয়েছে।