রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সাইফুল বারীর কথায় কাজী শুভর ‘পিরিতের অসুখ’ বিজেসির ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা-মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যের ডাক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার তালতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মল্লিক জামাল, সম্পাদক মো: রেজাউল ইসলাম রনি ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের ঠাকুরগাঁও পুলিশ কোর্টের বার্ষিক পরিদর্শন ডেঙ্গু প্রতিরোধে পিরোজপুরে ৩ মাসের বিশেষ পরিকল্পনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদের নির্দেশ পিরোজপুর শহরে আগুনে পুড়ল ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং বিষয়ে পিরোজপুরে জেলা কর্মশালা পিরোজপুর জেলায় নতুন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আজিমনগর আওয়ামী লীগ নেতা নূর ইসলাম চোকদার গ্রেফতার ভাড়া নির্ধারণের আগেই আদায় শুরু, চট্টগ্রামে গণপরিবহনে বেপরোয়া নৈরাজ্য

ধর্ষণের আলামত কিভাবে পরীক্ষা করা হয়?

  • আপডেট সময় রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১, ১.০৪ এএম
  • ২২৬ বার পড়া হয়েছে

যদি কোন মহিলা ধর্ষিত হয় প্রথমে সেই এলাকার থানাকে অবহিত করতে হবে। কেননা সেটা পুলিশ কেইস বা করতে জিডি হয়।থানা থেকে একজন পুলিশের ইন্সপেক্টর ভিকটিমকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে আসে। থানার মাধ্যমে প্রোপার রিকুজিশন নিয়ে ফরেনসিক বিভাগে আসতে হয়। সেই সাথে ভিকটিমের ছবি ও স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার আছে। সেখানেও পরীক্ষা হয়ে থাকে। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিসসেন্টারে ভিকটিমকে চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। যেমন- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা অন্যান্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হলেচিকিৎসকরা ভিকটিমকে তা দিয়ে থাকে। কথাগুলো ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার জান্নাতুন নাইম। এটি কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

তিনি আরো বলেন- ভিকটিম যে ধর্ষিত হয়েছে সেই আলামত নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়ে থাকে। প্রয়োজন সাপেক্ষে ডিএনএটেস্ট করা হয়ে থাকে। যদি ভিকটিমের সাথে কোন দৈহিক মিলন হয়ে থাকে সেইটা পরীক্ষা করবার জন্য ভিকটিমের যৌনাংগথেকে সোয়াপ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। যৌনাংগের ভিতর কোন শুক্রাণু আছে কিনা এই পরীক্ষাটি করেন ফরেন্সিক স্পেশালিস্ট।পরে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে নমুনা পাঠানো হয়। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস থেকে নমুনা নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের ভিতরে ডিএনএ ল্যাবআছে ওখানে পাঠানো হয়। এছাড়া ফরেনসিক বিভাগে যে কেইস আসে সেগুলোর নমুনা মালিবাগে সিআইডির অধীনেওপাঠানো হয়।

এছাড়া বয়স নির্ধারণ করাবার জন্য ছয়টা হাড়ের এক্সরে করতে রেডিওলোজি বিভাগে পাঠাতে হয়। বয়সের সঙ্গে ধর্ষণের একটাসম্পর্ক আছে। এরপর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পাঠানো হয় হাই ভেজিনাল সোয়াপ আছে কিনা তা দেখার জন্য। সব রিপোর্টআসার পর ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়। এই রিপোর্ট গুলো আসতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ দিন ও সর্বোচ্চ এক মাস সময় লেগেযায়। ধর্ষণ কেইসের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করতে কোন ধরনের খরচ নেই।

বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক এই সুবিধা পেয়ে থাকে। যেদিন ঘটনা ঘটে সেদিন থানায় গেলে থানা ভিকটিমকেসেফ কাস্টডিতে রাখে। কেউ যদি ধর্ষণের শিকার হয় সাধারণত তিন দিনের মধ্যে আসলে আলামত পেতে সুবিধা হয়।

যৌনাংগের ভিতর শুক্রাণুটা পাওয়া যায়। এছাড়া ভিকটিমের কাপড়ও আলামত হিসেবে রাখা হয়। কারণ ধর্ষণ হওয়ার সময়কাপড়ে যদি কোন বীর্য লেগে থাকে তাহলে ওই আলামত পাওয়া গেলে সুবিধা হয়।

আগে টু-ফিঙ্গার বলে একটা পরীক্ষা হতো। যেটা হাইকোর্ট থেকে আইন করে বন্ধ করে দিয়েছে। আগে এই পরীক্ষা পুরুষ মহিলাসব ডাক্তাররাই করতেন ২/৩ বছর যাবত শুধু মহিলা ডাক্তাররা পরীক্ষা করছেন।

যদিও এই পরীক্ষাটা খুব জরুরী। তথাপি ভিকটিমের মানহানির কথা চিন্তা করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ ভিকটিম তোএমনিতেই ধর্ষণের শিকার তারপর ডাক্তারেরা আবার যৌনাংগের ভিতর পরীক্ষা করে। এই জন্য করে যে যৌনাংগের ভিতরএকটা পুরুষাংগ ঢোকার মতো ততটা স্পেস আছে কিনা।

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ডাক্তার আছে ছয়জন এবং ফরেনসিক বিভাগে তিনজন । আর সহকারি আছে দুজন। এখন সবই মহিলা ডাক্তার। বর্তমানে লকডাউন ও করোনার সময় ভিকটিম কম আসছে। তারপরও মাসে আনুমানিক ২০০ থেকে৩০০জন ভিকটিম আসে। সাধারনত ১৫ থেকে ৩৮ বছর বয়সি নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকে। তবে ইদানিং খুব ছোটশিশুরাও এর শিকার হচ্ছে যেমন ৩ থেকে ৪ বছরের বাচ্চারা। ছোট বাচ্চাদের পরীক্ষা করার সময় অনেক সাবধানতা অবলম্বনকরতে হয়। যেহেতু বাচ্চাটা ধর্ষণের শিকার হয়েছে তখন বাচ্চাটা অনেক ভয় পায়। বাচ্চারা তখন আর কাউকে বিশ্বাস করতেচায়না। অনেক সময় বাচ্চারা মানসিকভাবে ভেঙে পরে অসুস্থ হয়ে যায়। বাচ্চাদের অনেক বুঝিয়ে তথ্য বের করতে হয়। বর্তমানেঅনেক পুরুষ ধর্ষণের কেইসও আসছে।

প্রতিদিন ১০/১২ জন ভিকটিম আসে। যে পরিমাণ ভিকটিম ফরেনসিকে আসে সেই মোতাবেক ডাক্তার নেই। তাই রীতিমতোহিমশিম খেতে হয়।  ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডাক্তার জান্নাতুন নাইম বলেন ৩৬৫ দিন ফরেনসিক বিভাগটি ভিকটিমদের জন্য খোলা থাকে এবং আমাদের কাজ করতে হয়। এই বিভাগে আরও ডাক্তারের প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com