সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত!

  • আপডেট সময় বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৮.০৯ পিএম
  • ৭২৫ বার পড়া হয়েছে
অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরের তিনটি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে লুকোচুরি চলছে। একাধিকবার ইউনিয়নগুলোর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেও স্থগিত করা হচ্ছে।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে কয়েকটি ইউনিয়নে পূর্ব নির্ধারিত সম্মেলনের আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহুর্তে এসে জেলার শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে তা স্থগিত করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ অবস্থায় ইউনিয়নগুলোতে সম্মেলন হবে কি না তা নিয়েও নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ধোঁয়াশায় রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার, চর আবদুল্লাহ, চরপোড়াগাছা, চরআলগী, বড়খেরী, চররমিজ, কমলনগর উপজেলার সাহেবেরহাট, চরলরেন্স, চরমার্টিন, চরফলকন, পাটারিরহাট, হাজিরহাট, চরকাদিরা, তোরাবগঞ্জ, রায়পুর উপজেলার উত্তর চরআবাবিল, বামনী ও চরমোহনা ইউনিয়নের সম্মেলন স্থগিত করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, কমলনগরের ইউনিয়নগুলোর সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর তালিকায় নাশকতা মামলার আসামি ও বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশকারীদের নাম রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও ফরম সংগ্রহ করতে ইউনিয়নের সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থীদের কাছ থেকে ১০ হাজার ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন উপজেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদককে ৮টি ইউনিয়নের সম্মেলন স্থগিত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রায়পুরের ৩টি ইউনিয়নের সম্মেলনও স্থগিত করা হয়।
জানা গেছে, গত ২ অক্টোবর রামগতি উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে ১২ নভেম্বর কোনো কারণ ছাড়াই স্থগিত করা হয়েছে। নভেম্বর মাসেই দু’বার উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা করা হয়। ৯ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগ রামগতির ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সম্মেলনের নির্দেশ দেয়। এরমধ্যে চরবাদাম ও চরগাজী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। তবে অদৃশ্য কারণে স্থগিত হয়েছে পৌরসভা ও বাকি ৬টি ইউনিয়নের সম্মেলন। গত ২ ডিসেম্বর আবারো বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থগিত হওয়া ইউনিয়নের সম্মেলনগুলো সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। কিন্তু সময় অতিবাহিত হলেও সম্মেলনের কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।
অভিযোগ রয়েছে, রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড ও চর রমিজের ৪টি ওয়ার্ডে পকেট কমিটি দেওয়া হয়েছে। চর রমিজের বাকি ৫টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে একাধিকবার বর্ধিতসভা করে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টির সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়হীনতার কারণেই এসব সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের পছন্দের লোকদের কমিটিতে আনতেই ওই দুই নেতা একবার চিঠি দিয়ে সম্মেলনের তারিখ দিচ্ছেন, আবার মৌখিকভাবে তা স্থগিত করছেন। তবে অভিযোগের তীর বেশি সাধারণ সম্পাদকের দিকে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামগতি উপজেলার তিনজন আওয়ামী লীগ নেতা জানায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থীদেরকে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি গঠনতন্ত্র বিরোধী। এ ছাড়া ওই প্রার্থীরা সভাপতি-সম্পাদক হতে পছন্দমত লোকদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছে। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীরা দলবিমুখ হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, এখনো কাউন্সিলরদের তালিকা প্রস্তুত হয়নি। কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিতর্ক রয়েছে। এ জন্য ইউনিয়নগুলোর সম্মেলন স্থগিত করা হয়। শিগগির নতুন করে সম্মেলনগুলোর তারিখ পুনরায় ঘোষণা করা হবে।
তবে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, প্রার্থীদের কাছ থেকে কমলনগরে ১০০ টাকা করে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু ১০ হাজার ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়। এ অভিযোগে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ টাকা নেওয়া বন্ধ করতে বলে আমাকে ফোন করেছেন। দ্রুত সম্মেলনগুলো শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com