মোঃইমরান হোসাইন (বরগুনা) তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী-তালতলী যাওয়া আসার একমাত্র মূল সড়কটি এখন মরণ ফাদে পরিণত হয়েছে। প্রতি ১০-২০ গজ দুরত্বে রয়েছে বড় বড় গর্ত। গর্তের কারণে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কার করা না হলে ঘটেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা এমনটাই আশঙ্কা করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ, সাধারণ যাত্রীরা ও গাড়ীর চালকরা। যেকোনো মালবাহী ট্রাক, মাহেন্দ্রা, পিকাপ কিছুই চলতে সাহস পায় না।
এমনকি চলাচলের জন্যও রাস্তাটি সম্পূর্ণ অনুপোযোগী। সাধারণ মানুষ এখন ভয়ে ভয়ে অটো, আলফা ও মটরসাইকেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই গর্তপূর্ণ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে। রাস্তার মাঝে মাঝে এত বড় বড় গর্ত হয়েছে যে, চলাচলের পথে সর্বদাই মালবাহী কিংবা যাত্রীবাহী গাড়ী গর্তে আটকে থাকে। যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। আমতলী-তালতলী সড়কের মানিকঝুড়ি হইতে কচুপাত্রা ব্রীজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কে গর্তে ভরে গেছে।
বরিশাল-তালতলী ও ঢাকা-তালতলী গামী বাস চলাচল পুরোপুরি বন্দ হয়ে গেছে। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রী ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। জানা যায়, আমতলী-তালতলীর ফকিরহাট পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আমতলী-তালতলীর অন্তত অর্ধলক্ষ লোক যাতায়াত করে। এদিকে ২০১৯ সালে মানিকঝুড়ি বাজার থেকে কচুপাত্রা ব্রীজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সড়ক সংস্কারের এগারো মাসের মাথায় ঐ সড়কে গর্তে ভরে যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে তৎকালিন উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলামের গাফলতিতে ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করায় সড়ক এক বছরের মাথায় সড়কটি গর্তে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা ব্রীজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়ক। ঐ সড়কের প্রতি ১০-২০ গজ দুরত্বে রয়েছে বড় বড় গর্ত। সড়কের ইট-পাথরের সুরকি বের হয়ে মাটি উঠে গেছে। বড় বড় গর্তে গাড়ীর চাকা ফেঁসে যাচ্ছে। এমনকি কাঁদা মাটিতে মিশে সড়কটি একাকার হয়ে গেছে।
আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, ২০১৯ সালের জুন/জুলাইর দিকে রাস্তাটি সংস্কার হয় এবং মাত্র ১১ মাসের মধ্যে সড়কটি গর্তে ভরে গেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের লোকজনের কাছে বার বার অভিযোগ করা সত্বেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। তালতলীতে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিপইয়ার্ড রয়েছে। যার মালামাল নিয়ে প্রতিদিন শত শত গাড়ী চলাচল করে যা সড়কের গর্তে আটকে থাকে।
তৎকালিন উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলামের কাছে নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে রাস্তার কাজের কথা জানালে তিনি আমাকে বলেন আমি কাজে বাধা দিতে গেলে মাইর খেতে হবে। ইউপি আওয়ামী সভাপতি আরও বলেন, এ সড়কটিতে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার পাশাপাশি এখন মরণ ফাদে পরিণত হয়েছে। আমি অতি সত্তর সড়কটি সংস্কারের জোরালো দাবী জানাই।
আরপাঙ্গাশিয়া ইউপি সদস্য মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, মানিকঝুড়ি হইতে কচুপাত্রা পর্যন্ত মূল সড়কটি এতই খারাপ যে, সাধারণ মানুষ চলাচলের সময় গাড়ী উল্টে কারো হাত, কারো পা ভাঙ্গে। কেউ কেউ নানা ভাবে জখম হয়। অন্যদিকে আরপাঙ্গাশিয়া বাজার এলাকার অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে তাকালে মনে হয়, খালে পরিণত হয়েছে। আমি সর্বস্তরের জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে উক্ত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করাতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাচ্ছি।
আড়পাঙ্গাশিয়া ইউপি সদস্য মোঃ আবুল কালামসহ বাজারের অনেক ব্যবসায়ীরা বলেন, এটা সড়ক নয় যেন খাল। এর থেকে কাচাঁ রাস্তাও অনেক ভালো। এ সড়ক দিয়ে গাড়ী ও মানুষ চলাচলে খুবই দুর্ভোগ। প্রতিদিন দেখা যায়, যেখানে সেখানে গাড়ী উল্টে পড়েছে। সড়কটি সংস্কারের আগে খুবই ভালো ছিল কিন্তু সংস্কারের পর এখন খুবই খারাপ অবস্থা। অথচও কর্তৃপক্ষের কোনো নজরই নেই।
আমরা অতি দ্রুত সড়ক মেরামতের দাবী জানাই। আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন আমতলীতে যোগদান করেছি। ইতোপূর্বে সড়কটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।