মো: সবুজ ইসলাম,রাণীশংকৈল: মণি রাণী দাস (২১) নামের এক নারীকে যৌতুকের দাবিতে কেরোসিন তেল দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্ঠার অভিযোগে উঠেছে তার স্বামী, শ্বাশুড়ি এবং শ্বশুরের বিরুদ্ধে। বর্তমানে গুরুতর আহত হয়ে ওই নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এতে স্বামী মিঠুন চন্দ্র দাস, তার বাবা নিরেন দাস ও তার মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১ বছর আগে ৬ লক্ষ টাকার যৌতুকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরশহরের ৪ নং ওয়ার্ডের ভাণ্ডারা গ্রামের নিরেন দাসের গার্মেন্টস দোকানের কর্মচারির ছেলে মিঠুন চন্দ্র দাসের বিবাহ হয় পৌরশহরের বন্দর এলাকার গোপাল চন্দ্র দাসের মেয়ে মনি রাণী দাসের।
বিয়ের কয়েকদিন ভালো কাটলেও চলতি বছরের প্রথম দিকে আবার যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং মারধর করতে থাকে মিঠুন দাসসহ তার পিতা- মাতা। গত তিন মাস আগে মনি রাণী তার শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার বাপের বাড়ি চলে আসেন। এরই মধ্যে মিঠুন তার স্ত্রীকে ডিভোর্সের কাগজ পাঠিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ডিভোর্সের কাগজ হাতে পেয়ে তা নিয়ে মনি রাণী তার তার শ্বশুরবাড়ি গিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে তার স্বামী তাকে ধাক্কা মেরে ওয়ালের কাছে ফেলে দেয় এতে তার মাথা ফেটে যায়। সাথে সাথে তার শ্বশুর এবং শ্বাশুড়ি মনি রাণীর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দিয়ে দিয়াশলায়ের কাঠি দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন। গায়ে আগুন লাগার পর মণি রাণীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে এবং তার বাপের বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে তাকে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফিরোজ আলম বলেন, মেয়েটির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে মণি রাণী দাসের স্বামী মিঠুন দাসের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন,বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে