শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’ মালিবাগে ‘কাচ্চি সরদার’-এর উদ্বোধন করলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জে কে শান্ত ইতালি পাঠানোর নামে মালয়েশিয়ায় পাচার ও অর্থ আত্মসাৎ: চক্রের হোতাসহ গ্রেফতার ২ যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। –বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জেএসএস চট্টগ্রাম মহানগরের অভিষেক প্রস্তুতি, কমিটি গঠন ও আলতাফ হোসেনের জন্মদিনে দোয়া কিশোরগ্যাং অভিযান লক্ষ্মীপুরে তিন দফায় আটক ৫৪৯, আদালতে ৮৯ ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিংয়ে আহত অভিনেতা ওমর মালিক ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’ আয়োজনে গাইবেন বন্যা, নাচবেন  শিবলী ও নীপা ঝালকাঠিতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় পালিত বাবাসহ দুজন গ্রেপ্তার, ভিডিও ধারন ও ছড়িয়ে দেয়ার ব্লাক মেইল! কাউখালীর জেসমিন ধর্ষণ ও হত্যার মূল আসামী  তাঁতীদল নেতা মানিক গ্রেফতার

ভুতুড়ে বিল কার নির্দেশে : তদন্ত কমিটির দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০, ২.৩৪ পিএম
  • ২৭৫ বার পড়া হয়েছে

ভুতুড়ে বিল কার নির্দেশে : তদন্ত কমিটির দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ গত কয়েকমাসে দেশের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল। এ নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির শেষ নেই। করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ আসছিল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। এদিকে গণমাধ্যমে ডিপিডিসির এক শীর্ষ পরিচালকের নির্দেশে বেশি বিল করার নির্দেশনা ছিল বলে এ সংবাদ প্রচারের পর বিদ্যুৎ বিভাগ আবার নড়েচড়ে উঠে। এই নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এছাড়াডিপিডিসি আবারও সংস্থাটির পরিচালক (অর্থ) গোলাম মোস্তফাকে প্রধান করে আরেকটি কমিটি গঠন করে।

এদিকে, মন্ত্রণালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার দিন ভর বেশ কয়েকজন ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ডিপিডিসির দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (আইসিটি অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) এস এম শহীদুল ইসলামের নির্দেশে একই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রবিউল হাসান সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ে (এনওসিএস) নির্বাহী প্রকৌশলীদের ই-মেইলে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, কোন এলাকায় কত বাড়তি বিল করতে হবে, তার ছক ই-মেইলে পৃথক একটি ফাইলে দেওয়া হয়েছে।

এই ই-মেইলের অনুলিপি (সিসি) পাঠানো হয় ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী এ টি এম হারুন-অর-রশিদ ও নির্বাহী পরিচালক (আইসিটি অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) এস এম শহীদুল ইসলামকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ তিন সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রহমত উল্লাহ্ মোঃ দস্তগীর এনডিসি, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইনসহ বিদ্যুৎ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা রয়েছেন।

এদিকে, মন্ত্রণালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার দিন ভর বেশ কয়েকজন ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (আইসিটি) এম এম শহিদুল ইসলাম, নিবার্হী পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ। সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী ( সেন্ট্রাল) এ এফ এম মবিন, প্রধান প্রকৌশলী (দক্ষিণ) সৈয়দ আশরাফ আলী, প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রউফ খান ও জিএম (আইসিটি) মো: রবিউল হাসান।

এছাড়া পাঁচ নিবার্হী প্রকৌশলীরা হলেন, মুগদা ডিভিশনের অতিরিক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আরফান আলী, রাজারবাগ ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান শামীম, মগবাজার ডিভিশনের নিবার্হী প্রকৌশলী ও খিলগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত দ্বায়িতপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: রুহুল আমীন, বাসাবো ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বাসাবো সার্কেলের অতিরিক্ত দ্বায়িতপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: নাসির উদ্দিন ও বনশ্রী ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আহসানুল ইসলাম সরকার।তবে বাসাবো ও বনশ্রী ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ছুটিতে থাকায় তারা উপস্থিত হতে পারেননি। তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিপিডিসির কর্মকর্তারা সকাল ১০ টার কিছু পরে মন্ত্রণালয়ে আসেন।

দুপুর দেড়টার কিছু পরে তারা বেরিয়ে যান। তদন্ত কমিটি তাদের কাছে বেশ কিছু তথ্য চেয়েছেন।আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) সকালের মধ্যেই সেই তথ্য গুলো জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এ ব্যাপারে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ডিপিডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি।কেউ দোষী হলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। এদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রহমত উল্লাহ্ মোঃ দস্তগীর এনডিসিকে বৃহস্পতিবার রাতে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সম্প্রতি ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করতে কমিটির পর কমিটি হচ্ছে, প্রতিবেদনের পর প্রতিবেদনও দেওয়া হচ্ছে ।

এদিকে ডিপিডিসিতে কয়েকজনকে কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত, ৩৬ টি ডিভিশনের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশদের কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং সিএসএসের বেশ কয়েকজন মিটার রিডারের চাকরিচ্যুত করা ছাড়া আর কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এমনকি অভিযুক্ত সিএসএসের বাৎসরিক ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত করার কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছু নয়। জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোম্পানি ব্যবস্থাপনায় কমিটি গঠন নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হবে। এই কমিটি গঠনের যেমন কিছু ভালো দিক আছে, আবার কিছু মন্দ দিকও রয়েছে। বলা হয়, যখন কোনও ইস্যুকে ধামাচাপা বা স্তিমিত করে দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয় তখনও কমিটি গঠন করা হয়। ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়েও তা-ই হচ্ছে।

যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করছে, তারা এখনও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। বিন্দু মাত্র কারো গাফিলতি থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ডিপিডিসির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ আসে। সে সময় ডিপিডিসি তাদের পরিচালক আইসিটিকে প্রধান করে একটি কমিটি করে। সেই কমিটির সুপারিশে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চার জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ৩৬টি এনওসির নির্বাহী প্রকৌশলীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। যেসব প্রকৌশলীকে শোকজ করা হয়েছিল তারা জবাবে জানান, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আইসিটি নিজেই অতিরিক্ত বিল করার নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। তারা জানান, নির্দেশনায় বলা ছিল কোন কোন এলাকায় কতভাগ বেশি বিল করতে হবে।

জানতে চাইলে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, নতুন কমিটি কাজ করছে। এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলছিলাম, নিচের কর্মকর্তাদের দায়ী করা হলেও ওপরের যারা নির্দেশ দিয়েছে তাদের অভিযুক্ত করা হয়নি। ডিপিডিসি শুরু থেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এখনও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির এই বিচার হওয়া উচিত। নইলে এই খাতের দুর্নীতি আরও বাড়বে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com