শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্ব, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মাসিক সভা বাকলিয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে সংঘর্ষ, দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ; পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ,৪ লাখ টাকা জরিমানা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শিক্ষার্থীদের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম ১২ নভেম্বর শুরু গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু ককটেল, মশাল লাঠি ও কেরোসিন উদ্ধার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না : হুমায়ুন কবির মোংলা বন্দর হবে দেশের সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে : প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

বাকলিয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে সংঘর্ষ, দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ; পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২.০৬ পিএম
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ- চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় বিরোধপূর্ণ পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, টিনের বেড়া স্থাপন এবং দুই সহোদর ভাইকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পরিবারের নারী সদস্যদের মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করেছেন বাদী। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা শেষ হওয়ার পর এবং জমির সীমানায় পাঁচটি টিনের শিট লাগানোর পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে পশ্চিম বাকলিয়ার ডিসি রোডসংলগ্ন ভরাপুকুরপাড় এলাকার আবদুল কাদেরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আবদুল জলিল (৬৫) বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ৩৯। এতে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবদুল কাদেরের বাড়ির ভেতরে অবস্থিত ওয়ারিশি সম্পত্তি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে চার নম্বর আসামি এনামুল হক হাসানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই সম্পত্তি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা-মোকদ্দমা এবং নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে এক থেকে আট নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জন নারী-পুরুষ সংঘবদ্ধভাবে তাঁদের ওয়ারিশি সম্পত্তিতে প্রবেশ করেন। তাঁদের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাঁরা সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে বাউন্ডারির দক্ষিণ পাশে টিনের বেড়া দিতে শুরু করেন। এ ঘটনায় বাদীপক্ষের আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, খবর পেয়ে বাদী ও তাঁর ছেলেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে প্রথম আসামি মো. হুমায়ুন ফারুক সজীব তাঁর হাতে থাকা ছোরা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর বড় ছেলে আবদুল ওয়াহেদ মুন্না (৩৫)-এর পেটের বাম পাশে উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় প্রথম আসামির নির্দেশে অন্যদের সহায়তায় দ্বিতীয় আসামি সৈয়দ রুম্মন আজফার তাঁর হাতে থাকা ছোরা দিয়ে ছোট ছেলে মাঈন উদ্দিন হাসান মিনহাজ (২৮)-এর পেটের ডান পাশে উপর্যুপরি আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এতে দুই ভাই গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।

বাদীর অভিযোগ, দুই ছেলেকে রক্ষা করতে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়। এ সময় তাঁদের পরনের কাপড় খুলে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে দেখে অভিযুক্তরা বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই ভাইকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আইসিইউতে ভর্তি করেন। এজাহারে তাঁদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করেছেন বাদী।

মামলায় নামীয় আট আসামি হলেন—১ নম্বর মো. হুমায়ুন ফারুক সজীব, ২ নম্বর সৈয়দ রুম্মন আজফার, ৩ নম্বর আবদুল্লাহ আল হেলাল, ৪ নম্বর এনামুল হক হাসান, ৫ নম্বর আব্দুল আল রশিদ, ৬ নম্বর আব্দুল আল হারুন, ৭ নম্বর আবদুর রব এবং ৮ নম্বর সারাফত খান। তাঁদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জন নারী-পুরুষকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে বাদীপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার সময় ঘটনাস্থল কিংবা আশপাশে পুলিশের কোনো উপস্থিতি তাঁরা দেখতে পাননি। তাঁদের দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর এবং সীমানায় পাঁচটি টিনের শিট লাগানোর কাজ শেষ হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত, আসামিদের গ্রেপ্তারের অগ্রগতি এবং বাদীপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আলমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও নিরপেক্ষভাবে দৃশ্যমান তদন্ত, এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং আদালতের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ কিংবা কোনো ধরনের অনৈতিক লেনদেনের কারণে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে তাঁরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি তদারকি এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com