পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ- পিরোজপুরের কাউখালী জনপদের বিশিষ্ট সামাজিক উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও শিক্ষা অনুরাগী আব্দুল লতিফ খসরু আর নেই। তিনি আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আব্দুল লতিফ খসরু ছিলেন একজন মানবিক, সংবেদনশীল ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। কাউখালীর সন্ধ্যা নদীর চরাঞ্চলের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিশুদের জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে পাঠশালা গড়ে তুলেছিলেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পাঠাগার। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা সংকটে বিপন্ন মানুষের পাশে তিনি সবার আগে দাঁড়াতেন। মানুষের কল্যাণে তাঁর নিরলস ভূমিকা তাঁকে কাউখালীর মানুষের কাছে একজন আপনজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাঁর সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকতার জীবনে একাধিক প্রতিবেদন লিখেছি। সেসব প্রতিবেদনের শিরোনামে উঠে এসেছে, একুশের ফেরিওয়ালা’, ‘আলোর মানুষ’, ‘নিভৃত চরের দেবদূত’ ও ‘অন্যনায়ক’।
এসব শিরোনাম কেবল সংবাদ নয়, বরং তাঁর কর্মময় জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। আমার গ্রাম ও জনপদকেন্দ্রিক সাংবাদিকতার দীর্ঘ জীবনে অসংখ্য মানুষের দেখা পেয়েছি; কিন্তু আব্দুল লতিফ খসরুর মতো নীরবে, নিভৃতে এবং এতটা নিবেদিতভাবে মানুষের জন্য কাজ করা মানুষ সত্যিই বিরল। তাঁর মানবিক উদ্যোগ ও সমাজসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ সমাজসেবক হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
তাঁর এই মৃত্যুতে কাউখালীসহ পিরোজপুরের সামাজিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। বড্ড অসময়ে চলে গেলেন খসরু ভাই। তাঁর কর্ম, মানবিকতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমাদের মাঝে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।