বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
এভিয়েশন হাবে রূপান্তরে জাপানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ চসিক এর অনুপ্রবেশ ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপরে রাস্তা নির্মাণ অবৈধ দাবী ভূমি মালিকের সাইফুল বারীর কথায় কাজী শুভর ‘পিরিতের অসুখ’ বিজেসির ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা-মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যের ডাক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার তালতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মল্লিক জামাল, সম্পাদক মো: রেজাউল ইসলাম রনি ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের ঠাকুরগাঁও পুলিশ কোর্টের বার্ষিক পরিদর্শন ডেঙ্গু প্রতিরোধে পিরোজপুরে ৩ মাসের বিশেষ পরিকল্পনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদের নির্দেশ পিরোজপুর শহরে আগুনে পুড়ল ৬ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং বিষয়ে পিরোজপুরে জেলা কর্মশালা

ঢাকা মেডিকেল দুর্ভোগের নাম সার্জারী ওয়ার্ড

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ৯.১৬ এএম
  • ২৫১ বার পড়া হয়েছে
অ আ আবীর আকাশ, ঢামেক থেকে:
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে শয্যা দিতে না পারায় একসীট তিন থেকে চারজন রোগীকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এমনকি রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ড যেন এক দুর্ভোগের নাম। ধারণক্ষমতার তিন থেকে চারগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে এ ওয়ার্ডে। শয্যা না পেয়ে ওয়ার্ড ও বারান্দায় বিছানা পেতে নিতে হচ্ছে চিকিৎসা। নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা। ভাঙাচোরা ও দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট নিয়ে রোগী ও স্বজনদের রয়েছে সীমাহীন ভোগান্তি। মাত্রাতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে তাদের ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নানা সংকটের মাঝেও সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসাস্থল ঢামেক হাসপাতাল। জেলা ও উপজেলাভিত্তিক হাসপাতাল থাকলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেককে এ হাসপাতালে আসতে হয়। হাসপাতালটিতে সার্জারী বিভাগের ছয়টি ইউনিট রয়েছে। এতে সাধারণ শয্যা ১৯৪টি ও পেয়িং শয্যা ২৯টি। মোট ২২৩টি শয্যা থাকলেও হাসপাতালে গড়ে ছয় শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন থাকে। বাধ্য হয়ে অর্ধেকের বেশি রোগী মেঝে ও বারান্দায় বিছানা পেতে কোনো রকম চিকিৎসা নিচ্ছে। সার্জারী বিভাগে দুজন অধ্যাপক, পাঁচজন সহযোগী অধ্যাপক, ১১ জন সহকারী অধ্যাপকসহ মোট ২৬ জন চিকিৎসক থাকলেও রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছেন না। এতে শয্যা সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের ১০৮, ১০৯ দ্বিতীয় তলার ২১৫ সার্জারী ওয়ার্ড। মূল সিঁড়ি দিয়ে উঠে হাতের ডানে ভবনের সরু বারান্দা দিয়ে যেতে হয় সেখানে। স্ট্রেচারে রোগী নিয়ে আসা-যাওয়াসহ সরু বারান্দায় মানুষের চলাচলে সব সময় ভীড় লেগে থাকে। ভিড় ঠেলে মেডিসিন বিভাগের গেটে আসতেই তিনটি ইউনিটের সম্মুখে বারান্দায় রোগী ও স্বজনদের কারণে তিলধারণের ঠাঁই নেই। পর্যাপ্ত ফ্যান না থাকায় অত্যধিক গরমে বারান্দায় চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ ছাড়া লোকজনের কথাবার্তা ও চলাচলে সারাক্ষণ কোলাহল লেগেই থাকে ওয়ার্ডের বারান্দায়।
কুমিল্লা থেকে আসা সিজারে ডেলিভারি হওয়া টুম্পা রানী রোগীর স্বজন গোবিন্দ বলেন, ‘আমার স্ত্রীর সিজারে বাচ্চা হয়েছে সোমবারে। বুধবারে তার সেলাই ছিঁড়ে গিয়ে পেটের নাড়িভড়ি বেরিয়ে আসে। এতে গাইনি বিভাগ থেকে আমাদের সার্জারি বিভাগে ট্রান্সফার করা হয়েছে। এখানে এসে দেখি এক সিটে তিনজন, চারজন করে রোগী। আমার এই অপারেশনের রোগী কোথায় রাখবো?’
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা মরিয়ম বলেন‘
‘মোর বোনের পেটে থ্যাকি থ্যাকি ব্যথা বাড়ি যায়, মাথা ঘোরে আর অসুস্থ হয়া পড়ে। কুড়িগ্রামোত ডাক্তাররা ঢাকোত চিকিৎসা নেওয়ার জন্তে পাটেয়ে দিল। অ্যালা ওয়ার্ডের ভেতরোত বিছানা খালি নাই। বাড়ি থ্যাকি আনা চট বারান্দাত বিছিয়া চিকিৎসা নেওছি। ডাক্তার রোগীক দেখবার সময় পায় না। এর মধ্যে গরমোত কাহিল অবস্থা। সারা দিন-রাইত হাতপাখা দিয়া রোগীক বাতাস করা নাগে।’
ঢাকার রায়েরবাজার ও সায়দাবাদ হতে আসা ষাটোর্ধ বয়সী দুই নারী বুকে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়েছে তারা। সার্জারি বিভাগের ১০৯  ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর সিটে আছেন। সেখানে একই সিট চারজনকে বরাদ্দ দেয়ায় তারা হতাশ হয়েছেন। এতে সেবা সশ্রূষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সাংবাদিক অ আ আবীর আকাশকে জানান তারা
ফরিদপুরের ভাঙা থেকে আসা রিয়া আক্তার বলেন, আমার মায়ের তলপেটে ব্যথা করলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু শয্যা না থাকায় সার্জারি বিভাগের ইউনিট-২-এর মেঝেতে রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। মানুষের আসা-যাওয়া ও কথাবার্তার কারণে মাকে নিয়ে বড়ই অসুবিধায় আছি।
লক্ষ্মীপুর জেলা সদর দালাল বাজারের মহাদেবপুর গ্রাম থেকে আসা ফরিদা বেগমের পাকস্থলীতে ক্ষত নিয়ে বুধবারে ভর্তি হয়েছেন। ব্যথার যন্ত্রণা কান্নাকাটি করছেন। চিকিৎসা বলতে নরমাল স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে প্রথম দুদিন। এরই মধ্যে অপারেশনকৃত একজন এবং অপারেশনের জন্য অপেক্ষা করা আরো দুই রোগীসহ চারজনকে একটি সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে ফরিদা সুচিকিৎসা পাওয়ার আশায় দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করেও ফ্লোরে চাটাই বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এক রোগীর স্বজন আমজাদ হোসেন বলেন, সার্জারি ওয়ার্ডের টয়লেট ব্যবহার করা যায় না। চারদিকে নোংরা। হাসপাতাল থেকে সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের ওষুধও পাওয়া যায় না। পুরো বিভাগের মানুষের জন্য বড় এ হাসপাতালে আমরা রোগী নিয়ে এসে চরম অবহেলার শিকার হচ্ছি।
অধ্যাপক ও বিভাগের বিভাগীয় প্রধান
ডাঃ সালমা সুলতানা এফসিপিএস সাংবাদিক অ আ আবীর আকাশকে বকেন-  দাঁত, চোখ ও সার্জারি ছাড়া সব ধরনের চিকিৎসা হয় সার্জারি ওয়ার্ডে। এ ছাড়া ব্রেন, স্ট্রোক, হার্ট, কিডনিসহ বিভিন্ন বিভাগের রোগী যখন চিকিৎসার জন্য শয্যা পায় না, তখন তাদেরও পাঠানো হয় এ বিভাগে। তাই সব ওয়ার্ডের চেয়ে এখানে রোগীর চাপ বেশি। এর মধ্যেও চিকিৎসকরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, হাসপাতালের যে অবকাঠামো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরে একে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু আমাদের জনবল কাঠামো, চিকিৎসার ব্যবস্থা, ওষুধপত্র, বেড ক্যাপাসিটি, টয়লেট ব্যবস্থাসহ সবকিছু রয়েছে।
তিনি আরও বলেন,  এর মধ্যে আমার ওয়ার্ডে পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক রোগী সব সময় চিকিৎসাধীন থাকে। এত রোগীকে চিকিৎসক-নার্সরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ ছাড়া বারান্দা, মেঝে ও চলাচলের রাস্তায় থাকা রোগীর কাছে গিয়ে তার পুরো সমস্যা জানা, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। এর পরও আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com