সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কাউখালীতে ১শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবক গ্রেপ্তার রুহিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের মতবিনিময় দালালের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, সৌদিতে পড়ে আছে প্রবাসীর মরদেহ—বাবার অপেক্ষায় দুই শিশু পূর্ব বাড্ডায় জমি দখলের চেষ্টা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেঙ্গু প্রতিরোধ কিশোর গ্যাং দমনে  পিরোজপুরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা  কাউখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ হরিণধারা-গোপালপুর সড়ক: খালের পেটে বিলীন হওয়ার পথে  গ্রামের যাতায়াতের মাধ্যম পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’ মালিবাগে ‘কাচ্চি সরদার’-এর উদ্বোধন করলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জে কে শান্ত ইতালি পাঠানোর নামে মালয়েশিয়ায় পাচার ও অর্থ আত্মসাৎ: চক্রের হোতাসহ গ্রেফতার ২

নওগাঁর আত্রাইয়ে বানভাসিদের অনুদানের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

  • আপডেট সময় বুধবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৩, ৭.২৩ পিএম
  • ১৩৫ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাইয়ে সরকারি অনুদানের চাল (ত্রাণ) প্রকৃত বানভাসিদের না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি পরিমাণে কম দেওয়ার অভিযোগ আছে। এছাড়া চাল না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মারধর করার অভিযোগও করেছেন ভূক্তভোগীরা। ফলে অনুদানের চাল (ত্রাণ) প্রকৃত বানভাসির না পাওয়ায় প্রতিকার চেয়ে গত রোববার ১ অক্টোবর ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের প্রায় শতাধিক ভূক্তভোগী স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দিয়েছেন। এর আগে ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার ২৯ সেপ্টেম্বর হাটকালুপাড়া ইউনিয়র পরিষদে সরকারি অনুদানের চাল বিতরণের সময়। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন ও তার সাথে থাকা ৬জন ইউপি সদস্য।

অভিযোগে জানা যায়, হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডটি নদী বেষ্টিত হওয়ায় তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। কিন্তু সেখানকার বানভাসিদের অনুদানের চাল না দিয়ে পরিষদের চেয়ারম্যান নিজের ইচ্ছেমতো তার অনুগত লোকদের চাল দিয়েছেন। যেটা পুরোপুরি বেআইনি। যার কারণে প্রকৃত বানভাসিরা সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া অনুদানের চাল কম দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা। তিনি ১০ কেজি না দিয়ে জনপ্রতি ৭-৮ কেজি করে চাল দিয়েছেন। আর চাল না পাওয়া প্রকৃত বানভাসিরা প্রতিবাদ করতে গেলে চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে তাদেরকে মারধর করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভূক্তভোগী শাহিন মন্ডল বলেন, চেয়ারম্যান হাটুরিয়া, বাদ্যপাড়া লোকজনকে চাল দিচ্ছিলো। যারা কোনো কাজ বা বানভাসি ছিলো না। অথচ আমিসহ আমার এলাকার অনেক বানভাসি আছি এবং যারা দিনরাত পরিশ্রম করেছে। তাদেরকে না দিয়ে অন্যদের দিচ্ছিলো। আমি আমার নাম কোথায় জানতে চাইলে প্রথমে আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলা হয় তুই কে? এরপর চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার ভাগ্নে আমাকে মারধর করে। পাশাপাশি হাটকালুপাড়ার মেম্বারও আমাকে মেরেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

অভিযোগ দিতে আসা মাসুদ বলেন, যেখানে দূর্যোগ নাই, বা যারা কাজ করেনি চেয়ারম্যান তাদেরকে চাল দিয়েছে। আমি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানাই। চেয়ারম্যান তখন শনিবারে চাল দিতে চায়। কিন্তু এক পর্যায়ে শুক্রবার বিকেলেই চাল দেওয়ার কার্যক্রম প্রায় শের করে। তখন গ্রামের লোকজন সেখানে গিয়ে অনুদানের চাল চাইলে চেয়ারম্যান বলে তোদের জন্য কোনো চাল নেই। তিনি বলেন, এখানে ৪ শত লোকের জন্য সরকারিভাবে চাল দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান কতোজনকে চাল দিয়েছে সেটা তিনিই জানেন। তাই আমরা এর প্রতিকার চাইতে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশাকারি তিনি সঠিক বিচার করবেন।

অভিযোগ দিতে আসা আরেকজন বান্দাইখাড়ার আনারুল জানালেন, আমার বাড়িতে যে কয়জন অনুদান পাওয়ার কথা তাদেরকে না দিয়ে আমার ভাতিজা আইয়ুবকে দেওয়া হয়েছে। তাও আবার পরিমাণে ৭ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। অনেক কষ্ট করে আমরা বাধটি রক্ষা করেছি। তারপরও কোনো অনুদান দিলো না চেয়ারম্যান।

এব্যাপারে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক বিশা বলেন, আমার ওয়ার্ডে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে লোকজন। অথচ সেখানেই অনুদান দেওয়া হয়নি। আমি আমার গ্রামের লোকজন নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করেছি। এই ওয়ার্ডে বানভাসির সংখ্যা অনেক বেশি। অথচ চেয়ারম্যান আফজাল আমাকে কিছু না জানিয়ে তার ইচ্ছেমতো লোকজনকে দিয়েছে অনুদান। আমার গ্রামের ৮-১০ জন চাউল পায়নি। আমি এই বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছিলো না। এক পর্যায়ে লক্ষীপুরের শাহিন চেয়ারম্যানকে বলে আমার বাড়িঘর ডুবে গেছে এবং দিনরাত কাজ করেছি। তখন বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এবং শাহিনকে মারধর করা হয়। এছাড়া লোকজন আমাকে বলেছে চাল কম দেওয়া হয়েছে। আমার গ্রামের বানভাসি বেশি অথচ আমাকে মাত্র ত্রিশ জনের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর যারা কাজ করেনি তারাও এই অনুদানের চাল পেয়েছে। তবে তিনিও বলেন অনুদানের চেয়ে লোক সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছিল। তাই হয়তোবা চাউল কম দিতে পারে চেয়ারম্যান।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বলেন, এটা বিশা মেম্বারসহ একাধিক ব্যক্তির উসকানিতে হচ্ছে। আপনারা সরেজমিনে খোঁজ নিতে পারেন, আমি কাদের চাল দিয়েছি?যারা প্রকৃত বানভাসি এবং কাজ করেছে তাদেরকেই দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সাথে সম্মতি জানিয়ে তার সাথে থাকা ৬ জন ইউপি সদস্য জানালেন, ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামের লোকজন বাধ বাঁধতে সহযোগীতা করেছে। তারা সকলেই দিনরাত পরিশ্রম করে বাধটি রক্ষা করেছে।আর একটি গ্রামের কি সকলকে দেওয়া সম্ভব? বরং তারাই উদ্দেশ্যমূলকভাবে চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তারা অবরুদ্ধ করে রাখে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্চিতা বিশ্বাস বলেন, আমি লিখিত আকারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যারা ক্ষতিগ্রস্থ তারা অনুদানের চাল পায়নি। ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে আমি বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখবো। এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com