মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কিশোরগ্যাং অভিযান লক্ষ্মীপুরে তিন দফায় আটক ৫৪৯, আদালতে ৮৯ ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিংয়ে আহত অভিনেতা ওমর মালিক ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’ আয়োজনে গাইবেন বন্যা, নাচবেন  শিবলী ও নীপা ঝালকাঠিতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় পালিত বাবাসহ দুজন গ্রেপ্তার, ভিডিও ধারন ও ছড়িয়ে দেয়ার ব্লাক মেইল! কাউখালীর জেসমিন ধর্ষণ ও হত্যার মূল আসামী  তাঁতীদল নেতা মানিক গ্রেফতার সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ৩ দিনব্যাপী ‘যোসেফাইট টেক কার্নিভাল’ সম্পন্ন কাউখালীতে গৃহবধূকে হত্যা ও মালামাল লুট, ঘরে মিলল বিবস্ত্র লাশ কাউখালীতে প্রাথমিক শিক্ষক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে সৌহার্দ্য ফার্মেসিতে চুরি হওয়া  ১৭ লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার হয়েছে গোবিন্দগঞ্জে গ্রেফতার ৪  হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ

অবৈধ কার্যকলাপে প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসের পথে

  • আপডেট সময় শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ৮.৪৭ পিএম
  • ২১৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-খিলগাঁও থানাধীন আলী আহমদ স্কুল এন্ড কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠাতা জনাব আলী আহমদ সাহেবের হাত ধরে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার যাত্রা শুরু। ২০০৮ সালে কলেজ শাখাটি চালু হলেও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল অতি নগণ্য। বর্তমান অধ্যক্ষ জনাব নাছিমা পারভীনের সুদক্ষ পরিচালনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, লেখাপড়ার মানসহ শিক্ষার পরিবেশেও এসেছে আমুল পরিবর্তন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ বছর জানুয়ারী মাসে কলেজ শাখাটি এমপিও ভুক্ত হয়েছে।

বর্তমান গভর্ণিং বডি অত্র প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ২৪/০৫/২০২২ তারিখে। দায়িত্ব পাওয়ার সাথে সাথে সভাপতি ডঃ মোঃ নুরুজ্জামান ভূঁইয়া সহকারী অধ্যাপক, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য জনাব তানভীর আহমেদ রাকিব, অধ্যক্ষ মহোদায়কে জোর করে তার কক্ষ থেকে সরিয়ে সরকারীভাবে নির্মাণাধীন ভবনের একটি কক্ষে বসান। নিজেরা অধ্যক্ষের কক্ষটি দখল করে স্থায়ী আড্ডাস্থল বানিয়ে নেন। টর্চার সেল বললেও খুব একটা ভুল হবেনা, কেননা শিক্ষক কর্মচারীদেরকে এই কক্ষে এনে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে রেখে করা হত মানসিক নির্যাতন।

চাকুরী ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য দেয়া হত হুমকি। ভয়ভীতি দেখিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট নেয়ার চেষ্টা করা হত। এ রকম পরিস্থিতিতে কেউ কেউ চাকুরী ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।

কয়েকজন উচ্ছৃংখল এবং ফাঁকিবাজ শিক্ষক নিয়ে সভাপতি গড়ে তোলেন তার ক্যাডার বাহিনী, যাদেরকে দিয়ে প্রয়োজনমত শিক্ষক, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী এমনিক অভিভাবকদেরকেও হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হত ।

শুধুমাত্র নিয়োগ বাণিজ্যের জন্য বিনা কারণে অধ্যক্ষ মহোদয়কে তার পদ থেকে সরানোর জন্য শুরু করেন নানা রকম অপকৌশল। বিনা কারণে প্রতিনিয়ত কারণ দর্শানো নোটিশ করতে থাকেন, অনৈতিকভাবে অর্থ উত্তোলনের জন্য চেকে স্বাক্ষর করতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। অধ্যক্ষ মহোদয় রাজী না হওয়ায় তাকে জোর করে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। এলাকায় প্রচার করতে থাকেন,

অধ্যক্ষ ৫০/৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশের হেফাজতে আছে ইত্যাদি। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ স্বরূপ মানববন্ধন করতে গেলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা তাদের উপর হামলা করানো হয়। তিন জন শিক্ষক এই হামলার প্রতিবাদ করায় সভাপতি কোন বিধি অনুসরণ না করে নিজ স্বাক্ষরে তাদেরকে চাকুরী থেকে অপসারণ করেন। যারাই প্রতিবাদ করেছেন তাদেরকেই বিভিন্নভাবে অপমান, অপদস্ত করা হয়েছে। অকারণে একটার পর একটা শোকজ করেছেন। ভয়ভীতি দেখিয়েছেন চাকুরী থেকে বাদ দেয়ার।

গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভাপতি আর বিদ্যোৎসাহী সদস্য প্রতিষ্ঠানের নানা রকম কাজ করতে থাকেন। যেমন- ইংলিশ ভার্সন খোলার নাম করে শুধুমাত্র প্রচার প্রচারণার জন্য প্রতিষ্ঠান তহবিল থেকে বিপুল পরিমান অর্থ উত্তোলন করেন। যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে শহীদ মিনার স্থাপন করা, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরী করা ইত্যাদি। শিক্ষা সফরের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত চাঁদা নেয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে উঠানো হয় বিপুল পরিমান অর্থ। অথচ নিম্ন মানের ট্রান্স পোর্ট, নিম্নমানের খাবার দাবার সহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল প্রচুর অনিয়ম, যাতে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

অথচ ভাল মানের শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে তাদের কোন মনোযোগ নেই, নেই কোন তৎপরতা । মামলার খরচের কথা বলেও প্রতিষ্ঠান তহবিল থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছেন।

তাদের এই অবৈধ কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় অন্যায়ভাবে অধ্যক্ষ মহোদয়কে প্রথমে জোর করে বাধ্যতা মূলক ছুটিতে পাঠানো হয়, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ তারিখে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

৩০/০৪/২০২৩ তারিখে কোন রকম বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যে সকল মিথ্যা অভিযোগ করা হয়, সেগুলো হল অর্থ তছরূপ, অতিরিক্ত বেতন ভাতা গ্রহণ, শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি, অসদাচরন ইত্যাদি। এ সকল অভিযোগ সত্য প্রমানিত করার জন্য নিজেদের পছন্দের লোক নিয়ে তদন্ত কমিটি করেন এবং টাকা দিয়ে ইচ্ছেমত রিপোর্ট তৈরী করেন। অথচ এ সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়, ঢাকা থেকে তদন্ত করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা থেকেও তদন্ত করা হয়। এমনিক ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপীল এন্ড আরবিট্রেশন বিভাগেও এর শুনানি হয়। কোথাও কোন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com