দক্ষিণ ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীতীরে অবস্থিত প্রায় সাতশত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকার গেণ্ডারিয়ার, পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার ‘ডিআইটি পুকুর’ নামে পরিচিত পুকুরটি শত বছরের পুরাতন, পুকুর টি দখলদারদের দৌরাত্মে আজ বিলীন হতে বসেছে । পুকুরটি রক্ষায় শুক্রবার মানববন্ধন কর্মসূচী ডেকেছিলো গেণ্ডারিয়া ডিআইটি প্লট এলাকাবাসী।। কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি পুলিশ। পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার ‘ডিআইটি পুকুর’ নামে পরিচিত পুকুরটির চারপাশে মাটি ও আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও রিকশার গ্যারেজ।
জলাধার রক্ষা আইন অমান্য করেই পুকুরটি ভরাট করে দখলে নেয়া হচ্ছে। এটি রক্ষায় প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে এলাকাবাসী। তারা বলেন, গেণ্ডারিয়াবাসী কোনোভাবেই পুকুরটি হারাতে দেবে না।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে পুকুরের চারপাশে আবর্জনা ফেলে ভরাট শুরু করেন কয়েকজন প্রভাবশালী। ভরাট করা অংশে দোকান বসানো হয়। দিনে দিনে এসব দোকানের সংখ্যা বাড়ছে। পুকুরের পানিও দূষিত হয়েছে। কয়েক বছর আগেও এখানে গোসল করত এলাকাবাসী, ধোয়ামোছা চলতো। পুকুরটিকে ঘিরে মানুষের হাজারো স্মৃতি।
কিন্তু দখলদারদের দৌরাত্মে শতবর্ষী পুকুরটি এখন নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। চারপাশে গড়ে উঠেছে অনেক স্থাপনা। দেড় একরের পুকুরটির প্রায় অর্ধেকই এখন বেদখলে।

রাজউক ১৯৬৩ সালে গেণ্ডারিয়ায় ১৩ দশমিক ৫৭ একর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে। এর মধ্যে দুই একরের এই পুকুরও ছিলো। যার বয়স বর্তমানে প্রায় ১০০ বছর। সেই পুকুর ব্যক্তি মালিকানাধীন দাবি করে, এখন ভরাট করার প্রতিযোগিতা চলছে।গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন ডিআইটি পুকুরের চারপাশে মাটি ফেলে ভরাট করে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে আসবাবপত্র, ডেকোরেটর ও চা-বিস্কুটের প্রায় ৩০/৩৫টির মত দোকান ও কারখানা। উত্তর-পশ্চিম পাশে প্রায় ৫ শতাংশ জমিতে মাটি ফেলে গড়ে উঠেছে রিকশার গ্যারেজ।
রাজধানীর ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের গেণ্ডারিয়া ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় ওই মানববন্ধন হওয়ার কথা ছিলো। তাদের অভিযোগ, মানববন্ধনের স্থানে রাত থেকেই অবস্থান নিয়েছিলো অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কর্মীরা। এতে সংঘাতের আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে মানববন্ধন করতে দেয়নি পুলিশ।
ডিআইটি পুকুর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ইব্রাহিম আহমেদ রিপন বলেন, আমরা মানববন্ধন করার বিষয়টি বৃহস্পতিবারই শ্যামপুর থানা ও পুলিশের ওয়ারি জোনে জানাই। কিন্তু রাতে ওসি আমাকে ডেকে বলেন, এই আয়োজন করা যাবে না।
তিনি বলেন, অনুমতির দোহাইয়ে আমাদের প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয়নি। তবে আমরা শিগগরিই অনুমতি নিয়ে আরও বড় করে প্রোগ্রাম করবে। আমরা গেণ্ডারিয়াবাসী কোনোভাবেই আমাদের পুকুরটি হারাতে দেব না। এই পুকুর আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জলাধার আইন, পরিবেশ আইন ও ড্যাপ অনুযায়ী পুকুর ভরাট করার বৈধতা নেই।
তিনি বলেন, পুকুরের মালিকানা নিয়ে ব্যক্তি বা সরকারি সংস্থার মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে, সেটি অন্য বিষয়। কিন্তু জলাধার না থাকায় শহরে তাপ, বায়ুদূষণ এবং অগ্নি দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে ভয়াবহভাবে। তাই আমরা চাই এই পুকুরটি যেন কোনোভাবে না হারায়।
পুকুরটির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা ছিলো। এক সময় এটিকে রাজউক পুকুর বলা হতো। পরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা হিসেবে এটির মালিকানা দাবি করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, মালিকানা যারই হোক, পুকুরটি টিকে থাকুক। পাশাপাশি সৌন্দর্য বাড়ানোর প্রকল্প নেয়া হোক।