বাংলাদেশ এখন আর কোনো দেশের উপর নির্ভরশীল নয় তাই নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে সোমবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, বাংলাদেশ এখন আর কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়।
‘যারা আমাদের স্যাংশন দিয়েছে, তাদের স্যাংশন বিষয়ে কোনো ভয় করি না। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আমাদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে থাকতে হবে। তবে যারা আমাদের এমন স্যাংশন দিয়েছে তাদের কাছ থেকে কোনো কিছু কেনাকাটা না করতে আমি অর্থ মন্ত্রণালয়সহ অন্যদের বলে দিয়েছি।’
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান বলেন, ‘তিন মাসের খাদ্য কেনার মতো ডলার যেন আমাদের হাতে থাকে, সেটা নিয়েই আমাদের চিন্তা। তবে আমরা সবসময় রিজার্ভ ধরে রাখার চেষ্টা করি। আগে কত রিজার্ভ ছিল, এখন আমাদের রিজার্ভ কত?
‘তাই এটা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। আমাদের জমি আছে আমরা নিজেদের খাবার নিজেরাই উৎপাদন করব। এটা নিয়েও আমাদের কোনো সমস্যা নেই। দেশে এখন ৩১ দশমিক দুই দুই বিলিয়ন ডলার মজুদ আছে।’
এ সময় তিনি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে কেউ যদি ওই সরকারে থাকতে চায় তাহলে নেয়া যেতে পারে কিন্ত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা এখন সংসদে নেই।
‘বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে আমরা চিন্তিত নই, জনগন বর্তমান সরকারের সাথে রয়েছে। আওয়ামী লীগ যত কাজ করে ততই সমালোচনার শিকার হয়।’
ঘূর্ণিঝড় মোখায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে যথেষ্ঠ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। আমি নিজে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়েছিনানা নির্দেশনা দিয়েছি।
‘আমরা উপকূলীয় ১৩টি জেলায় ৭০৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছিলাম। আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পুনবার্সন কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
জাপানের সাথে সম্পর্ক কৌশলগত অংশিদারিত্বে উন্নীত
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দেশটির সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কৌশলগত অংশিদারিত্বে উন্নীত হয়েছে বলে জানান সরকার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী তার এ সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ‘জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিয়ো কিশিদা’র আমন্ত্রণে আমি ২৫ এপ্রিল জাপানের রাজধানী টোকিও পৌঁছাই। ২৬ এপ্রিল সকালে আমি জাপানের মহামহিম সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করি।
‘মহামহিম সম্রাট আমাকে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীরতর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঐ দিন সন্ধ্যায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী আমাকে গার্ড অব অনার দিয়ে নিজ কার্যালয়ে অভ্যর্থনা জানান। এরপর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক কৌশলগত অংশিদারিত্বে উন্নীত হয়েছে। এই বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে দ্রুততম সময়ে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদন, বিগ-বি প্রকল্পের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারকরণ, অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, জাপান ওভারসিজ কোঅপারেশন ভলান্টিয়ার প্রকল্প পুনরায় চালু করাবাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি বিনিয়োগ, মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, ঢাকা-টোকিও সরাসরি বিমান চলাচল ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়।
‘জাপান সরকার বাংলাদেশকে ৩০ বিলিয়ন ইয়েন বাজেট সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। বৈঠকে আমি ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই এবং দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য জাপানের সহযোগিতা চাই।