ফারাবীঃ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানায়, ইউক্রেনের অলিভিয়া পোর্টে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি থেকে ২৮ নাবিক ও হাদিসুর রহমান এর মৃতদেহ নিরাপদ স্হানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উল্লখ্য গত বুধবার বাংলাদেশ সময়ে রাতে ইউক্রেনের অলিভিয়া পোর্টে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধিতে বোম্বিং হওয়ার ফলে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমীর ৪৭ ব্যাচের একজন থার্ড ইঞ্জিনিয়ার ইন্তেকাল করে। জাহাজে ২ জন নারী অফিসার সহ ২৮ জন জীবিত মানুষ ছিল। এখানে আরেকটা বিষয় উল্লেখ্য যে “বাংলার সমৃদ্ধি” বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের একদমই নতুন একটা জাহাজ। মাত্র কিছুদিন আগেই শীপইয়ার্ড থেকে নতুন জাহাজ টেইক ওভার করা হয়ে ছিল। জাহাজে বোম্বিংএ নেভিগেশন ব্রিজ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রকেট হামলা এবং পরবর্তীতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে। আগুন নিভানো সম্ভব হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল । তবে এই কন্ডিশনে জাহাজটা আর চলাচলের উপযোগী রইল না। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রিপেয়ার করাও সম্ভব না তাই সব নাবিকদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করাতে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএসসির ব্রিফিং এ বলা হয়েছে রকেট হামলায় শিপের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। নেভিগেশন সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে তাই সমুদ্রপথে আর বের হওয়া সম্ভব ছিল না। মেইন পাওয়ার জেনারেটর কাজ করছিল না। শুধু ইমার্জেন্সি জেনারেটর কাজ করছিল সেটাও কতদিন করবে বলা মুশকিল ছিল। ইউক্রেনের বর্তমান তাপমাত্রা শূণ্যের কাছাকাছি। তাই পানি খুবই ঠান্ডা এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে তুষারপাতও হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, শিপের হিটিং সিস্টেমও কাজ করছিল না। গরম পানির সিস্টেমও সম্ভবত কাজ করছিল না। একোমোডেশন বা রুমগুলোতে হিটিং ছিল না। তাছাড়া আবারো রকেট পড়ার সম্ভাবনা থাকায় সবাই ন্যুনতম পাওয়ারের মধ্যে ইঞ্জিন রুমে গাদাগাদি করে অবস্হান করছিল। এছাড়াও অগ্নি নির্বাপনের জন্য ব্যবহৃত হওয়া সব পানি ব্রিজ হতে নেমে শিপের বাসস্থানের এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে ছিল যা এমুহূর্তে নিষ্কাশন করা বেশ কঠিন ছিল।
জাহাজের বাইরে শহর যে নিরাপদ, তারও নিশ্চয়তা ছিলনা। দূর্ঘটনায় নিহত থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের ছোট ভাই কাঁদতে কাঁদতে কাকুতি মিনতি করে বলেছে, হাদিসুরের বাবা-মা উনাদের ছেলেকে এক নজর দেখতে চান। হাদিসুরের ডেড বডি যেন যে কোন উপায়ে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
গত মাসের শুরু থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার অবস্থা নাজুক ছিল তাই ক্যাপ্টেন চাইলেই রিফিউজ করতে পারতেন অলিভিয়া পোর্টে যেতে। জাহাজের একজন মাস্টারকে অবশ্যই ক্রিটিকাল সিচুয়েশনে ইমিডিয়েট ও কার্যকর একশন নিতে পারতে হয়। মাস্টার যদি সেইফ না মনেকরে তাহলে জাহাজের যে কোন ডিসিশন ওভাররাইড করার ক্ষমতা রাখেন।
এইখানে উল্লেখ্য যে, একটা জাহাজের মাস্টারের উপরে কোম্পানীর প্রেসার সহ কমার্শিয়াল প্রেসার সব সময়েই থাকে। কমার্শিয়ালি কোন কোম্পানীই ক্ষতিগ্রস্ত হতে চায় না। তাই জাহাজের মাস্টারের উপরে প্রেসার থাকেই কোন পোর্টে দ্রুত গিয়ে পোর্ট থেকে দ্রুত বের হয়ে নেক্সট পোর্টে যাবার। কিন্তু ইউক্রেন ও আশে পাশের এরিয়াকে ওয়ার যোন ঘোষণা করার পরেও সেইখানে কমার্শিয়াল ও অন্যান্য প্রেসার থাকলে তাকে ওভাররাইড করে ক্যাপ্টেন বা মাস্টার, যদি সেই মুহুর্তে পোর্টে যেতে অস্বীকৃতি জানাতেন তাহলে এটলিস্ট জাহাজের ক্রু আর অফিসারদের জীবনের ঝুকিটা থাকতো না।
আমাদের জানা মতে ১৫ ই ফেব্রুয়ারিতে একটা সার্কুলার জারি করা হয় ইন্টার্ন্যাশনালি যাতে উল্লেখ করা থাকে যে ইউক্রেন ও আশে পাশের এরিয়াকে ওয়ার যোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যা ই-মেইলের মাধ্যমে জাহাজে ১৭ তারিখেই পাঠানো হয়। এরপরেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধির ইউক্রেনের পোর্টে প্রবেশ করাটা মাস্টারের ইনকম্পিটেন্সি ছাড়া আর কিছুই প্রকাশ করে না।
এরকম একটা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার খুব দ্রুততার সাথে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিয়ে ২৮ জন নাবিক কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনাতে নাবিকদের স্বজনরা সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং তারা দাবি জানায় ২৮ জন অফিসার ও ক্রু যাতে কোন বিপদ ছাড়াই নিরাপদে দেশে আসতে পারেন৷