প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সিইসি ও অন্য ৪ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই তালিকা হস্তান্তর করেন সার্চ কমিটির সদস্যরা। এসব নাম পর্যালোচনা করে সাংবিধানিক সংস্থাটির এই ৫ পদে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপ্রধান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন বা ইসি গঠন করবেন রাষ্ট্রপতি। তারপর শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে তথা গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে সার্চ কমিটির সুপারিশ করা নামগুলো প্রকাশ করা হবে না।
সার্চ কমিটির জমা দেওয়া ১০ জনের তালিকায় সিইসি পদে সাবেক দুই আমলার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। তারা হলেন- সরকারি কর্মকমিশন, পিএসসি সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ইসি সচিব মোহাম্মদ সাদিক এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা। এ তালিকায় সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালের নামও শোনা যাচ্ছে।
এ ছাড়া ৪ জন ইসির জন্য ৮ জনের নাম চূড়ান্ত হয়েছে, যাদের ২ জন শিক্ষক, ২ জন নারী, ১ জন করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কারা নিয়োগ পাচ্ছেন, তা দেখতে গেজেটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির বৈঠকে মোট ১০ জনের নামের চূড়ান্ত করা হয়। গত ১২, ১৩ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪৭ জন বিশিষ্টজনের সঙ্গে বৈঠক করে সার্চ কমিটি। তারাসহ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে ৩২২ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়, যা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে সার্চ কমিটি।
সদ্য বিদায়ী নির্বাচন কমিশনের ৫ বছরের মেয়াদ শেষে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিদায় নেয়। তার আগেই নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ ডাকেন রাষ্ট্রপতি। এই প্রক্রিয়া শেষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সার্চ কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সংলাপ ও সার্চ কমিটির কাছে নাম প্রস্তাব করেছে, যার বেশিরভাগেরই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি বিএনপিসহ ১৫টি দল, সেগুলোর অধিকাংশই বিরোধী শিবিরের।