জানা যায়, চান্দপুর ইউনিয়নের ভদ্রাসন চান্দপুর ৩২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ফলে এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যের ভাগ্য ঝুলে আছে।
ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মাহফুজ পেয়েছেন ৮ হাজার ৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহতাব উদ্দিন (আনারস) পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৩৯ ভোট।
এ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ২ হাজার ২২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন। কিন্তু বন্ধ কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ২১৯।
এদিকে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে দুই কেন্দ্রের ফলাফলে রুমা খাতুন (মাইক) ২৪৪ ভোটে এগিয়ে আছেন। দুই কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৩৬৩ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোছা. রীনা আক্তার (বই) পেয়েছেন ১ হাজার ১১৯ ভোট। তৃতীয় স্থানে আছেন আকিকুনন্নেছা (সূর্যমুখি)। তিনি পেয়েছেন ৬৭৫ ভোট।
বন্ধ কেন্দ্রের পুনরায় নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট এবং পূর্ববর্তী প্রাপ্ত ভোটের যোগফলের ভিত্তিতেই চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে।
সাধারণ সদস্য পদে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে পুন:নির্ধারিত তারিখেই ওই কেন্দ্রে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সাধারণ সদস্য পদে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে।
এদিকে জালালপুর ইউনিয়নের ৬৮ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিও ব্যাপক অনিয়মের কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৬২৭।
এ ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল আলম (চশমা) পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মতিউর রহমান (টেবিল ফ্যান) পেয়েছেন ২ হাজার ৪৫৬ ভোট।
বন্ধ কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ২৬২৭। ব্যবধানের চেয়ে কেন্দ্রটির ভোট কম হওয়ায় এ ইউনিয়নে রফিকুল আলম (চশমা) এর বিজয় নির্ধারিত হয়ে গেছে।
কিন্তু ঝুলে আছে সংরক্ষিত নারী আসনের ভাগ্য। দুটি কেন্দ্রে মনোয়ারা বেগম (তালগাছ) পেয়েছেন ১ হাজার ৭৩৭ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অনুফা (মাইক) পেয়েছেন ৬৮৫ ভোট। কেন্দ্র দুটিতে মনোয়ারা বেগম (তালগাছ) ১ হাজার ৫২ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
বন্ধ কেন্দ্রে সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থী রয়েছেন চার জন। পুন:ভোট অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত নারী ও সাধারণ সদস্য পদে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।
চান্দপুর ও জালালপুর ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা ভেটেরেনারী সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন মুন্সি ও কৃষি অফিসার মুকশেদুল হক বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রের বিবরণী নির্বাচন কমিশন বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।