এইচ,আর,হিরু,গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামারের তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল করে বেপজার কার্যক্রম বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামার সংলগ্ন
মাদারগঞ্জ এলাকার আধিবাসী সাঁওতালদের ভূমি পুনুরুদ্ধার কমিটির ব্যানারে শনিবার(৪ঠা সেপ্টেম্বর) সকালে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এক বিক্ষোভ ও বিক্ষোভ শেষে
বাগদা (কাটামোড়) এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ভূমি পুনরুদ্ধার কমিটির সভাপতি ও সাঁওতাল নেতা ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন ভূমি উদ্ধার কমিটির সহ-সভাপতি রেজাউল,কোষাধ্যক্ষ প্রসিলা মুরমু,সংগঠনিক সম্পাদক স্বপন শেখ বিটিস সরেন,তৃষা মুরমু,হাজী নুরুল ইসলামসহ সাঁওতাল নেতারা।
এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী হতে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করে বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন কোন ফসলি জমি নষ্ট করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয় তবুও একটা মহল বেপজাকে প্রভাবিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা উপেক্ষা করে তিন ফসলির জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার পাঁয়তারা করছে।তাদের দাবী এই জমি এক সময় সাঁওতাল বাঙ্গলীদের বাপ-দাদার জমি ছিল।সে জমি ইক্ষু চাষাবাদ করার শর্তে চিনিকল কর্তৃক রিকুইজিশন করা হয়েছিল।তবে বর্তমানে চিনিকল বন্ধ ও ইক্ষু চাষাবাদ না হওয়ায় সেই শর্ত ভঙ্গ হয়েছে।তাদের দাবী যেহেতু শর্ত ভঙ্গ হয়েছে তাই পৈত্রিকসূত্রে সাঁওতাল বাঙ্গালীরাই এখন এই জমির মালিক।নেতারা বলেন এ জমি উদ্ধারে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিন সাঁওতালকে জীবন দিতে হয়েছে।
নেতারা আরও জানান, বর্তমানে জমিতে আমরা ধানসহ বিভিন্ন ফসলাদী চাষাবাদ করছি। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য অনেক জায়গা সরকারের পতিত রয়েছে।সাঁওতালদের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের কথা উল্লেখ্য করে নেতারা বলেন আমরাও উন্নয়ন চাই। কিন্তু সাঁওতালদের পিছনে ফেলে রেখে সেই উন্নয়ন কতটুকু যুক্তিযুক্ত? এরপরও বেপজার কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে আমরা প্রয়োজনে এর থেকেও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব। সেইসাথে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমি ফেরত ও তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার, লুটপাট, ভাংচুর, বসতবাড়ীতে অগ্নিসংযোগকারীদের শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে আনন্দ মিছিল ও শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার সকাল ১১টায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাবাসী ও সাংবাদিক বৃন্দের ব্যানারে আয়োজিত আনন্দ মিছিলে গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।উক্ত কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে ভার্চুয়ালী বক্তব্য রাখেন গোবিন্দগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান ও উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র মুকিতুর রহমান রাফী,বীরমুক্তিযোদ্ধা শ্যামুলেন্দু মোহন রায় সহ উপজেলার সাংবাদিকবৃন্দ।