আল সামাদ রুবেল,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ- নাচের ছন্দে শুরু হয়েছিল স্বপ্নের পথচলা। সেই স্বপ্নকে সঙ্গী করে একদিন মঞ্চে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষা থেকে আজ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন নৃত্যশিল্পী নাইমুজ ইনাম নাইম। জন্মদিন তাঁর জীবনে কেবল আরেকটি বছর পূর্ণ হওয়ার উপলক্ষ নয়; বরং শৈশবের স্বপ্ন, নিরলস সাধনা, অর্জন এবং নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার এক বিশেষ মুহূর্ত।
১৫ অক্টোবর নড়াইল জেলার আলাদাতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নাইমুজ ইনাম নাইম। পরিবারের একমাত্র সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই গান ও নাচের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। একসময় পরিবারের উৎসাহে শুরু হওয়া সেই চর্চাই পরিণত হয় জীবনের লক্ষ্য ও পেশাগত পরিচয়ে। নাচের প্রতি ভালোবাসা, নিয়মিত অনুশীলন এবং মঞ্চে নিজেকে প্রকাশ করার অদম্য ইচ্ছা তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায় বহুদূর।
নৃত্যশিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভারতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও এক বছর মেয়াদি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর নৃত্যগুরু গোপাল চন্দ্র কুণ্ডুর কাছ থেকে অর্জিত শিক্ষা ও নির্দেশনা তাঁর শিল্পীজীবনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পাশাপাশি তার মা ইসমত আরা তাকে সব সময় অনুপ্রেরণা, শক্তি এবং সাহস দিয়েছেন একজন নৃত্যশিল্পী হিসাবে তৈরি হওয়ার জন্য।
বর্তমানে নাইমুজ ইনাম নাইম বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের নৃত্যশিল্পী (গ্রেড-৩) হিসেবে কর্মরত। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন এই জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের নৃত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন।
নৃত্যশিল্পে তাঁর পথচলায় যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা। জাতীয় পর্যায়ে নৃত্য প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি ২০১৭ সালে ‘International Country Concept Note Award’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সেরা পরিবেশনশিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্যও রয়েছে তাঁর অর্জনের তালিকায়। এসব অর্জন তাঁর শিল্পীজীবনের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
এবার তাঁর শিল্পীজীবনে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অংশগ্রহণের নতুন অভিজ্ঞতা। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের সামুত প্রাকানে অনুষ্ঠিত International Samut Prakan Tourism and Folklore Festival 2026-এ বাংলাদেশের ‘Dibbya Cultural Organization’-এর দলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য পরিচালক এবং নৃত্যগুরু দীপা খন্দকার। টিম ম্যানেজার ছিলেন নাহিদা সুলতানা। দিব্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র নৃত্যশিল্পী ফারা শাওয়ার ঝুনঝুন, আফরোজা সুলতানা পান্না, তাহমিনা খাতুন , এবং চট্টগ্রামে বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক স্বপন বড়ুয়া অংশগ্রহণ করনে উক্ত অনুষ্ঠানে এবং সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান কোর্ডিনেট করেন দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশের আর এক গুণী নৃত্যশিল্পী জুবায়ের হোসেন নাঈম। গত ৯ থেকে ১২অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ উৎসবে ৬ টা দেশের শিল্পীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।
নৃত্যশিল্পী নাইমের কাছে নৃত্য কেবল শরীরী অভিব্যক্তি নয়; এটি আবেগ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের পরিচয় প্রকাশের এক অনন্য ভাষা। তাঁর বিশ্বাস, নৃত্য ও সংস্কৃতির চর্চা তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল, সংবেদনশীল এবং নিজস্ব শেকড়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলতে পারে। তাই নিজের শিল্পীসত্তার বিকাশের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরাও তাঁর অন্যতম স্বপ্ন।
জন্মদিনে পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়, ছোট্ট একটি গ্রামের সাংস্কৃতিক অনুরাগী শিশুর স্বপ্ন ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পীর পরিচয়ে। সামনে রয়েছে আরও অনেক পথ, নতুন মঞ্চ, নতুন অভিজ্ঞতা ও নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা।এটি তাঁর শিল্পীজীবনের অর্জনকে ফিরে দেখা এবং আগামী দিনের স্বপ্নকে নতুন করে সাজানোর উপলক্ষ। নাচের ছন্দে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আরও দূরে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশায় তাঁর পথচলা অব্যাহত থাকুক—এই হোক জন্মদিনের শুভকামনা।
জন্মদিনে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন গুনী এই নৃত্যশিল্পী।