আল সামাদ রুবেলঃ সচিবালয়ে ৫ ঘন্টাব্যাপী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে অবরুদ্ধ করে হেনস্তা ও গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে উদীচী। এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি ড. সফিউদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির যে ভয়াল ও অমানবিক চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তার অনেকটাই সম্ভব হয়েছে রোজিনা ইসলামের মতো অকুতোভয় সাংবাদিকদের নিরন্তর প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার কারণে।
যে কোন উৎস থেকে যেকোন পন্থায় তথ্য সংগ্রহ করে তা জাতির সামনে উপস্থাপন করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দীর্ঘসময় ধরে একজন সংবাদকর্মীকে আটকে রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে ধরনের নিপীড়নমূলক আচরণ করেছেন, তা সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার সামিল এবং আধিপত্যবাদী ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার লক্ষণ।
সাংবাদিক পরিচয় জেনেও যেভাবে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয়কে টেনে এনে বৃটিশ আমলের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩’ এর ধারায় রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট যে, সরকার দুনীতিবাজদের বিরুদ্ধে নয় বরং তা প্রকাশিত হবার ভয়ে এসব আইন বলবৎ রেখেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ প্রবর্তনের মাধ্যমে মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধি, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার যে আশংকা আমরা অতীতে বহুবার ব্যক্ত করেছি রোজিনা ইসলামের ঘটনার মধ্য দিয়ে তা নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
উদীচী অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি দাবি করছে। এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিলের জোর দাবি পুনর্ব্যাক্ত করছে।