রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কাউখালীতে ১শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবক গ্রেপ্তার রুহিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের মতবিনিময় দালালের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, সৌদিতে পড়ে আছে প্রবাসীর মরদেহ—বাবার অপেক্ষায় দুই শিশু পূর্ব বাড্ডায় জমি দখলের চেষ্টা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেঙ্গু প্রতিরোধ কিশোর গ্যাং দমনে  পিরোজপুরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা  কাউখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ হরিণধারা-গোপালপুর সড়ক: খালের পেটে বিলীন হওয়ার পথে  গ্রামের যাতায়াতের মাধ্যম পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’ মালিবাগে ‘কাচ্চি সরদার’-এর উদ্বোধন করলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জে কে শান্ত ইতালি পাঠানোর নামে মালয়েশিয়ায় পাচার ও অর্থ আত্মসাৎ: চক্রের হোতাসহ গ্রেফতার ২

বরগুনার তালতলীতে ঘরে ঘরে পাটালি গুড় তৈরির উৎসব

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০.৩৪ এএম
  • ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃইমরান হোসাইন (বরগুনা) তালতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে পাটালি গুড় তৈরির উৎসব। এক সময় দিগন্ত জুড়ে মাঠ কিংবা সড়কের দুই পাশে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ চোখে পড়তো। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুর গাছ। শীত মৌসুমের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। শীতের সময়ই পাওয়া যায় সুস্বাদু পানীয় খেজুর গাছের রস। শীতের সকালে মিষ্টি রোদে বসে এই সুস্বাদু খেজুর গাছের রস পানের মজাই আলাদা।

ভরা মৌসুমে রস সংগ্রহের জন্য শীতের আগমনের শুরু থেকেই প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন গাছিরা। এর ফলে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা তালতলী উপজেলার গ্রামগঞ্জের খেজুর গাছের কদর বেড়েছে। এখনও তেমন একটা শীতের দেখা না মিললেও এরই মধ্যে খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। গাছ সংকটের কারণে প্রতি বছরের মতো এ বছরও চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা অনেক গাছির।

কয়েক বছর আগেও এলাকার প্রতিটি বাড়িতে, ক্ষেতের আইলের পাশে ও রাস্তার দুই ধারে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। গাছটি সাধারণত উপযোগী আবহাওয়ায় জন্মে। প্রতি বছরে ৪ মাস খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। এ রস অত্যন্ত সুস্বাদু ও মানবদেহের উপকারিতার কারণে মানুষের কাছে অতি জনপ্রিয়। শীতকালে শহর থেকে মানুষ ছুটে আসতো গ্রামবাংলার খেজুর রস খেতে। রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যেতো তখন। রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি গুড় তৈরি করতেন তারা। যার স্বাদ ও ঘ্রাণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এখন অবশ্য সে কথা নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথা মনে হতে পারে। যত বেশি শীত পড়বে তত বেশি মিষ্টি রস দেবে খেজুর গাছ। খেজুর গাছ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। এছাড়া খেজুর পাতা দিয়ে আকর্ষণীয় ও মজবুত পাটি তৈরি হয়।

এমনকি জ্বালানি কাজেও ব্যাপক ব্যবহার হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, কালের বির্বতনসহ বন বিভাগের নজরদারি না থাকায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব খেজুর গাছ এখন বিলুপ্তির পথে। তালতলী উপজেলার বড় অংকুজান পাড়া গ্রামের ছিদ্দিক মিয়া বলেন, শীত মৌসুমের শুরুতেই আমি খেজুর গাছের রস সংগ্রহের কাজ করে থাকি। কাঁচা রস বিক্রির পাশাপাশি এই রস থেকে পাটালি ও ঝোলা গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করি। মালিপাড়া গ্রামের খালেক মুসুল্লি বলেন, বর্তমানে যে হারে খেজুর গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, হয়তো বা এক সময় আমাদের এলাকা থেকে খেজুর গাছ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সবার উচিৎ তালগাছের মতো বেশি করে খেজুর গাছ লাগানো এবং তা যত্ন সহকারে বড় করা। আমাদের হাজার বছরের এই ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে হলে এই কাজে সবার এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, আমরা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে তালতলী উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই ধার দিয়ে খেজুরের গাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

খেজুর গাছ ফসলের কোনও ক্ষতি করে না। এই গাছের জন্য বাড়তি কোনও খরচ লাগে না। এ বছর সঠিক সময়ে শীতের আগমন হওয়ায় তালতলী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আগাম খেজুর গাছ ঝুড়া শুরু হয়েছে। এখান থেকে চাষিরা রস আহরণ করবে। শার্শায় প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশী রস আহরণকারী খেজুর গাছ রয়েছে। সেখান থেকে কৃষকরা খেজুরের রস সংগ্রহ করবে এবং তা থেকে বিভিন্ন ধরণের মিষ্টি পণ্য তৈরি করবে। যা বাজারে বিক্রি করে তারা ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com