রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কাউখালীতে ১শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবক গ্রেপ্তার রুহিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের মতবিনিময় দালালের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, সৌদিতে পড়ে আছে প্রবাসীর মরদেহ—বাবার অপেক্ষায় দুই শিশু পূর্ব বাড্ডায় জমি দখলের চেষ্টা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেঙ্গু প্রতিরোধ কিশোর গ্যাং দমনে  পিরোজপুরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা  কাউখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ হরিণধারা-গোপালপুর সড়ক: খালের পেটে বিলীন হওয়ার পথে  গ্রামের যাতায়াতের মাধ্যম পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’ মালিবাগে ‘কাচ্চি সরদার’-এর উদ্বোধন করলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জে কে শান্ত ইতালি পাঠানোর নামে মালয়েশিয়ায় পাচার ও অর্থ আত্মসাৎ: চক্রের হোতাসহ গ্রেফতার ২

বিএনপি আসলে সবসময় বিভ্রান্তির মধ্যে ভোগেন : তথ্যমন্ত্রী

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০, ৮.২৩ পিএম
  • ৩০০ বার পড়া হয়েছে

‘গত এক যুগে দেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন মির্জা ফখরুল সাহেবরা দেখেও দেখেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবন মিলনায়তনে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ আয়োজিত প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সমসাময়িক প্রসঙ্গে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

বিএনপির মহাসচিবের সাম্প্রতিক মন্তব্য ‘বিজয় মিললেও মুক্তি মিলেনি’ এর জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে তারা (বিএনপি) সবসময় বিভ্রান্তির মধ্যে ভোগেন এবং তা থেকে মানুষকেও বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালান। উন্নয়নের বিষয়ে তাদের আমি আইএমএফ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পরিসংখ্যান দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৬০০ থেকে থেকে দুই হাজার ৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের হার ৪১ থেকে ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে- এগুলো পড়লে বিভ্রান্তি কেটে যাবে। অবশ্যই সমালোচনা করবেন কিন্তু নিজের বিভ্রান্তি থেকে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা কখনই দেশ ও জাতির জন্য শুভ নয়।

বিএনপি মহাসচিবের অপর বক্তব্য ‘দেশ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে’ এর পরিপ্রেক্ষিতে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিদিন সকালবেলা ফখরুল সাহেব একবার কথা বলেন, বিকেলবেলা রিজভী সাহেব কথা বলেন। আর গয়েশ্বর বাবুও মাঝেমধ্যে কথা বলেন। তাঁরা দিনে তিনবার সমালোচনা করেন আর বলেন যে, তাঁদের কথা বলার কোনো অধিকার নাই। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, একটি মিছিল বের করতে চাইলে আমাদের ওপর লাঠিপেটা করা হতো। বহু লাঠির বাড়ি আমার ঘাড়ে-পিঠে আছে, পল্টু ভাইয়েরও আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এ দেশে গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত আছে। বিএনপি এই গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে ২০১৩-১৪-১৫ সালে আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছিল, নির্বাচন বর্জন করেছিল। আর ২০১৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েও নেয়নি, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রকে ব্যাহত করা।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশকে আরো এগিয়ে নিতে, ২০৪১ সাল নাগাদ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানুষের মনন তৈরিতে, তৃতীয় নয়ন খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং দায়িত্বশীলদের আরো দায়িত্ববান করার ক্ষেত্রে, সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনাদের অনুরোধ জানাব, যারা আজকে দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়, ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে দেশকে মধ্যযুগে নিয়ে যেতে চায় এবং তাদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, সেই বিএনপিসহ তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে আপনাদের কলম ধরতে হবে, লিখতে হবে।

ড. হাছান বলেন, ‘যারা রাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিতে চায়, যারা আমাদের সংস্কৃতি-কৃষ্টির ওপর আঘাত হানে, তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দেশ জেগেছে। কারণ ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতি আর দুঃশাসনে তারা বাংলাদেশের অগ্রগতির চাকাটাকে ঘুর্ণায়মান চাকায় পরিণত করেছিল আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর গতিশীল দূরদর্শী নেতৃত্বে তা ধাবমান চাকায় পরিণত করেছেন। ধাবমান এই উন্নতির চাকার গতিবেগ আরো বৃদ্ধি করে আমরা দেশকে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে চাই।

এ সময় দেশে গণমাধ্যম বিকাশের ওপর আলোকপাত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১২ বছর আগে দৈনিক সংবাদপত্র ছিল ৪৫০টি, এখন এক হাজার ২৫০টি। অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ। টেলিভিশন ছিল ১০টি এখন ৩৫টি, একইভাবে অনলাইন মাধ্যম আইপিটিভি থেকে শুরু করে সব গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে ব্যাপক বিপ্লব ঘটেছে।

এটির পাশাপাশি কিছু সমস্যাও যুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই সমস্যাগুলো আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সংবাদপত্রের মান, সংবাদের গুণগতমান ধরে রাখা এবং যে কারো হাতে যেন সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র না যায়, সে নিয়েও আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এ সময় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান তাঁর বক্তৃতায় সংবাদপত্র তথা সমগ্র গণমাধ্যমের উন্নয়ন ও কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরেন।

বিএসপি সভাপতি মো. শাহজালালের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স ম গোলাম কিবরিয়া, বিএসপির সাধারণ সম্পাদক এম জি কিবরিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক শেখ মঞ্জুর বারী মঞ্জু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম ইউনুস প্রমুখ।

এর আগে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিজয় দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন এবং প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স ম গোলাম কিবরিয়াসহ অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com