সিডরে অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাওয়া সাগর এখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বরগুনার তালতলীসহ উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যায় সুপার সাইক্লোন ‘সিডর’। সিডরের আঘাতে তালতলীতে ১৫০ জন মারা যায়। আহত হয় দুই হাজার ৫শ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৫২ হাজার ঘর-বাড়ি। ঘূর্ণিঝড় সিডরের সঙ্গে দুই ঘণ্টা ‘যুদ্ধ’ করে অলৌকিক ভাবে বেঁচে যায় ৬ মাস বয়সী শ্রী সাগর শিকদার। সে এখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। পড়ে তালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। পড়ালেখার একান্ত ইচ্ছা থাকলেও প্রধান অন্তরায় দারিদ্র্যতায় বার বার লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। সাগরের বাবা শশী শিকদার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করে তালতলীর খোট্টার চরে অবস্থান করছিল প্রায় দুই হাজার জেলে পরিবার।

শশী শিকদারের পরিবার তার মধ্যে একটি। রাত ৯টার দিকে সিডর উপকূলে আঘাত হানে। আঘাতের দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিবেশী সিদ্দিকুর রহমান বাইরে বের হন।’ তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে ঢেউয়ের আঘাতে বাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। স্ত্রী ও শিশু পুত্র সাগরকে আঁকড়ে ধরেন শশী। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী শশীকে বলে তোমার ছেলেকে তুমি নাও আমি আর পারছি না। এই বলে স্ত্রী রঞ্জিতা রানী ছুটে মাদার গাছে উঠে যান। শশী শিকদার ছেলেকে নিয়ে সাগরে ভাসতে থাকেন। স্থানীয় খোকন মুন্সির বাড়ির নারকেল গাছের সঙ্গে ছেলেকে বেঁধে রেখে স্ত্রী রঞ্জিতা রানীকে খুজে মাদার গাছ থেকে নামিয়ে খোকন মুন্সির ঘড়ের চালায় আশ্রয় নেন। দীর্ঘ দুই ঘন্টা পর সন্তানের কথা মনে পড়ে। কিন্তু প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে ছেলের কাছে তারা যেতে পারেননি। মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে খোকন মুন্সি শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে দেন। ৩ বার শিশুটি মায়ের হাত থেকে পানিতে পড়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরপর মৃত ভেবে সাগরকে তার বাবা মা ফেলে দিতে চাইলেও খোকন মুন্সি বাধা দেয়। এবং সাগরকে বুকে জড়িয়ে রাখতে বলেন। আনুমানিক ২-৩ ঘণ্টা পর সাগর প্রসাব করলে সন্তান বেচেঁ আছে বলে চিৎকার করেন।’