রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কাউখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ হরিণধারা-গোপালপুর সড়ক: খালের পেটে বিলীন হওয়ার পথে  গ্রামের যাতায়াতের মাধ্যম পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’ মালিবাগে ‘কাচ্চি সরদার’-এর উদ্বোধন করলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জে কে শান্ত ইতালি পাঠানোর নামে মালয়েশিয়ায় পাচার ও অর্থ আত্মসাৎ: চক্রের হোতাসহ গ্রেফতার ২ যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। –বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জেএসএস চট্টগ্রাম মহানগরের অভিষেক প্রস্তুতি, কমিটি গঠন ও আলতাফ হোসেনের জন্মদিনে দোয়া কিশোরগ্যাং অভিযান লক্ষ্মীপুরে তিন দফায় আটক ৫৪৯, আদালতে ৮৯ ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিংয়ে আহত অভিনেতা ওমর মালিক ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’ আয়োজনে গাইবেন বন্যা, নাচবেন  শিবলী ও নীপা

নওগাঁর আত্রাইয়ে উন্মুক্ত জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ চাষ-অনাহারে মৎস্যজীবিরা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০, ৫.৫৭ পিএম
  • ২৩৮ বার পড়া হয়েছে
সোহেল রানা,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ-নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নে উন্মুক্ত জলাশয় ‘বিলসুতি’ তে বানা (বাঁশের বেড়া) দিয়ে মাছ চাষ করার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিয়ে বানা অপসারণসহ জলাশয়টি উন্মুক্ত করতে নওগাঁ জেলা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মৎস্যজীবিরা। রোববার বেলা ১১টায় হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের চড়কতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে তদন্ত কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
এর কিছু পরই উভয়পক্ষের উত্তেজনা শুরু হলে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। তবে বিষয়টি সুরাহা না হলে যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন ও রাজশাহী বাঘমারা উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে এ উন্মুক্ত জলাশয় ‘বিলসুতি’। এ জলাশয়ের উপর হাটকালুপাড়া, বড় শিমলা, চকশিমলা,সহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৭০০টি মৎস্যজীবি পরিবার মাছ শিকার করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
এ জলাশয়ে আষাঢ় থেকে অগ্রহায়ণ (৬মাস) পর্যন্ত পানি থাকে। বার বার স্থানীয় প্রভাবশালী হাটকালুপাড়া ও শিমলা মৌজা ও বিলসুতি বিল উত্তর অংশ মৎস্যচাষ প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল কাদের, সাধারন সম্পাদক মোঃ আহসান হাবিব, রমজান আলী শেখ, হবিবুর রহমান, মুনছুর রহমান, কামরুজ্জামান বাবুল ও মোঃ মোজাম্মেল সহ কয়েকজন প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ উন্মুক্ত জলাশয়ে বানা দিয়ে মাছ চাষ করছে। গত চার বছর থেকে বাঁধ ও বানা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে মাছ চাষ করে আসছেন তারা।
মৎস্যজীবিদের জলাশয়ে মাছ শিকার করতে দেয়া হয়না। মাছ শিকারের জন্য জলাশয়ে নামলে নৌকা ডুবিয়ে দেয়া হয়, মারপিট করা হয় এবং ঘারবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হবে বলেও হুমকি দেয়ার অভিযোগ করা হয়। এতে করে মৎস্যজীবিদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
এদিকে মৎস্যচাষীদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য মৎস্যজীবিদের প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নিকট জলাশয়টি উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবিরা।
গজমতখালী মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি জামিল হোসেন, হাটকালুপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবি জামাল উদ্দিন, সদের আলী, গৃহবধু রোকেয়া বেগম সহ অনেকেই বলেন, মাছ শিকার করে আমাদের সংসার চলে। গত কয়েক বছর থেকে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল জলাশয়ে মাছ চাষের নামে প্রজেক্ট করে আমাদের নামতে দেয়া হচ্ছে না। জবরদখল করে প্রভাবশালীরা বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে কয়েক দফা বানা ও বেড়া সরিয়ে ফেলা হলেও আবার প্রভাবশালীরা জলাশয়টি দখলে নিয়েছে। মাছ শিকার করতে গেলে নৌকা ডুবয়ে ফেলা, জাল নষ্ট ও মারপিট করা হয়। এমনকি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। বর্তমানে সংসার চালানো আমাদের কষ্টকর হয়ে উঠেছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে রিক্সা চালানো ও পোশাক কারখানায় কাজ করছে। জলাশয়টি উন্মুক্ত করা সহ স্থায়ীভাবে এর সমাধান হোক এই আমাদের দাবী। তারা অভিযোগ করে বলেন- উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকা নিয়েছে। এ কারণে মৎস্যচাষীদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য একটা প্রস্তাব দিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত আব্দুল কাদের, আহসান ও হবিবুর রহমান বলেন, ব্যক্তিমালিকানা জমিতে অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকায় ঠিকমতো ফসল হয়না। বন্যার সময় জমিতে পানি উঠায় বানা দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে মৎস্যজীবিদের কোন ধরনের সমস্যা হচ্ছেনা। ধানের চেয়ে মাছ চাষ লাভজনক। এছাড়া মৎস্যজীবিদের হুমকি ও নৌকা ডুবিয়ে দেয়ার বিষয়টি ঠিক না।
আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেব নাথ বলেন, তদন্ত চলার কিছু পরই উভয়পক্ষ উত্তেজনা শুরু হলে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেখান থেকে চলে আসা হয়েছে। তবে বর্তমানে যারা দখলে রেখেছেন তাদের সঙ্গে মৎস্যজীবিদের আপোষ করতে বলার বিষয়টি ভিত্তিহীন। আমার উপর অনেকের ক্ষোভ থাকতে পারে। আইনের বাহিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ছানাউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আমরা ইতোপূর্বে কয়েকবার অবৈধ বাঁধ ও বাঁশের বেড়া উচ্ছেদ করেছি। তবে জলাশয়টি যেন উন্মুক্ত হয় সে বিষয়টি দেখা হবে

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com