এইচ,আর,হিরু,গাইবান্ধাঃ
ঘাগোয়া ইউনিয়নের শোলা গাড়ি গ্রামে শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন এ সব সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রসূন কুমার চক্রবর্তী , সহকারী কমিশনার (ভুমি )নাহিদুর রহমান , পি.আই.ও আনিছুর রহমান , প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আবেদুর রহমান স্বপন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ । সেই শিশুটি মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে লালন-পালনের দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক । গাইবান্ধা শহরের একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার ঘটনা জানার পর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে হতভাগি মা ফিরিয়ে পেলেন তার সন্তানকে। গত শনিবার রাতে ওই শিশু ছেলে সন্তানকে অর্থের বিনিময়ে গ্রহণকারি ব্যক্তির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের শোলাগাড়ি গ্রামের দিনমজুর শাহজাহান মিয়ার গর্ভবর্তী স্ত্রী আমেনা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিজারিয়ানের জন্য জেলা শহরের যমুনা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারের পর সন্তানসহ মা ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি থাকেন। পরে তাকে রিলিজ দেয়ার সময় ক্লিনিকের পাওনা হয় ১৬ হাজার টাকা। ওই টাকা পরিশোধ করার মত সামর্থ্য ছিল না শাহজাহান মিয়ার। এই অবস্থায় তিনি তার নবজাত শিশুটিকে সাদুল¬াপুর উপজেলার মনোহোরপুর গ্রামের এক নি:সন্তান দ¤পতির কাছে বিক্রি করে দিয়ে ক্লিনিকের পাওনা পরিশোধ করেন। কিন্তু সন্তান বিক্রি করার ঘটনায় মা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। মা অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে থেকে শুধু বিলাপ করে করেন। গত শনিবার বিকেলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রসূণ কুমার চক্রবর্ত্তী ও এনডিসি এসএম ফয়েজ উদ্দিনকে সন্তান হারা বাবা-মার কাছে পাঠান। পরে তাদের কাছ থেকে সন্তান গ্রহণকারির পরিচয় জানতে পেরে সেখানে গিয়ে ওইদিন রাতে ওই সন্তানকে তাদের জিম্মায় নিয়ে নেন। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্তান গ্রহণকারি ওই ব্যক্তিকে ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করে দেয়া হয়। পরে সেখান থেকে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল ওই শিশুটির বাড়িতে গিয়ে মায়ের কোলে তুলে দেন শিশুটিকে। এসময় ওই পরিবারকে ২০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি তেল, শাড়ী, লুংগি ও নগদ ২ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়।