শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ অপরাহ্ন

তিন দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ ও দিশা

  • আপডেট সময় শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮.৪৬ পিএম
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান সন্দেহভাজন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ এবং তরুণী জেরিকা তাসনিম দিশাকে তিন দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।

আলোচিত এই মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিনের করা রিমান্ড ও আটক রাখার আবেদন সূত্রে চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু তথ্য সামনে এসেছে।মৃত্যুর আগে কার কার সঙ্গে ছিলেন তাহসিফ? হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে পরিচিত সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।

পুলিশ ও মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দীপ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নেন। এরপর তারা একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে যান এবং জেরিকা তাসনিম দিশাকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর এক সিপি ফাইভ স্টারে নাশতা করেন। পরবর্তীতে রাতে তারা তিনজন উত্তরা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ গিয়ে বিয়ার পান ও ধূমপান করেন। একপর্যায়ে দিশা বাসায় ফিরে যান।

তদন্তে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে পুলিশের দাবি, মৃত্যুর আগে তাহসিফকে সবশেষ দীপ ও দিশার সঙ্গেই দেখা গেছে। ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তিতে পৌঁছান। সেখানে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে কয়েকজনকে দেখে তারা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান দীপ। পরে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গত ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।রিমান্ডে কি জানিয়েছে আসামিরা? পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ও দিশা ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে ঘোরাফেরা, বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত এবং রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব তারা কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং বেশিরভাগ সময় নীরবতা পালন করেছেন। আসামিদ্বয় চতুর প্রকৃতির হওয়ায় তাদের বক্তব্যে মিল-অমিল খতিয়ে দেখতে এবং ‘ক্রসচেক’ করতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।

শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ সব ধরনের তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কাউকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অধিকার নেই এবং আসামির মানসিক অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত, এই যুক্তি দেখিয়ে তার জামিনের আবেদন জানানো হয়। তবে মামলার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং অন্য কোনো অপরাধী এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে কারাবন্দী এই দুই আসামিকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com