সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৮৪ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে দুই হাজার ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে একই সময়ে সারা দেশে হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৫৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুইজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের হাইরে) একজন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুইজন ও রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ৬০৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৭, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২২৭, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৭৯, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫৫, রাজশাহী বিভাগে ২২৪, রংপুর বিভাগে ৮২ ও সিলেট বিভাগে ৩০ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ রোববার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৮৩ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৩ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৫ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২২৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৪০০ জনে।
গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৪ জন।