শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন

দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৮.৩৩ পিএম
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।

আজ শনিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র‌্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র‌্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র‌্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট  যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’

নয়াপল্টনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর কাছে সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এই সময় নেতাকর্মী- সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়।

বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

নেতা-কর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত  প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতা-কর্মীরা র‌্যালিকে বর্ণাঢ্য করে তোলে।

দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করে। দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।

নেতাকর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।

প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’

অতীতের মতো এখনও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র‌্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন।
মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র‌্যালিতে অংশ নেন।

– একুশে টেলিভিশন

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com