অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর
পবিত্র ঈদ- উল-ফিতর উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরে সেলুনে যেমন প্রচুর ভীড় লক্ষ্য করা যায় তেমনি বাড়তি টাকাও আদায় করছে তারা। এতে করে সাধারন ও নিন্ম আয়ের মানুষের চোখেমুখে হতাশা ও মন খারাপের চাপ ফোটে উঠে। নরসুন্দররা মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন আয়োজনে চুল দাঁড়ি ছাটাই করতে খেয়ালখুশি মতো বাড়তি টাকা আদায় করছেন। এনিয়ে কোথাও কোথাও বাকবিতন্ডা এমনকি হাতাহাতির মতন চরম পর্যায়ে পৌঁছে।
‘নতুন জামা-কাপড় ছাড়া যেমন ঈদ জমে না, তেমনই ঈদের আগে চুল না কাটালে মনে হয় আমেজটা পূর্ণতা পায় না’ কথাগুলো বললেন কিশোর লেখক ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল।
প্রচুর মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন হেয়ার কাটিং সেলুনের নরসুন্দরেরা। সকাল ৭টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত চলছে তাদের খুর-কাচির খচখচ শব্দ।
ঈদের আগে নিজেকে আরো সুন্দর আর পরিপাটি করে নিতে সেলুনে ভীড় করছেন অনেকেই। তবে সিরিয়াল পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
আনন্দ হেয়ার ড্রেসারের মালিক গৌতম বলেন- দিন দিন ছেলেরাও রূপচর্চায় সচেতন হচ্ছেন। ফলে ঈদ উৎসব ঘিরে নিজেকে আরেকটু পরিপাটি করে নিতেই তারা সেলুনে ভীড় করেন।
“ঈদে সবার সঙ্গে দেখা করবে, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে। এ কারণে সবাই চায় নিজেদের একটু পরিপাটি করে নিতে, আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে। যে ড্রেসের জন্য অনেক টাকা ইনভেস্ট করেছে, কিন্তু নিজের আসল ‘অ্যাসেট’ হল চুল, ফেইস এগুলো। সেটা যদি ঠিক না হয়, তাহলে কিন্তু ড্রেসের ইনভেস্টটা কাজে আসবে না।”
ময়না কাটিং সেলুনের মালিক গোবিন্দ চন্দ্র শীল বলেন -তার দুটি সেলুনে এ মাসের শুরু থেকেই ঈদের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সেলুন খোলা রাখলেও এখন রাখতে হচ্ছে রাত ২টা পর্যন্ত।
সেলুনে চুল কাটাতে সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ টাকা লাগে এখন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা লাগে। পছন্দের নকশার চুল কাটাতে ১৮০ টাকা, দাড়ি কামাতে ১০০-১৩০ টাকা লাগে। ৩৫০ থেকে ১৫শ দুই হাজার টাকায় ফেসিয়াল, আর ৪০০ থেকে হাজার টাকায় চুলে রঙ করানো হয়। তাছাড়া যারা চুল বড় রাখেন, তারা চুল রিবন্ডিং ও স্ট্রেইট করাতেও পারেন সেলুনে।
এবার চুল রঙ করানো আর ফেসিয়ালের চাহিদা বেশি জানিয়ে রাখালিয়া বাজারের বন্ধন হেয়ার কাটিং সেলুনের কারিগর সমীর সাংবাদিক অ আ আবীর আকাশকে বলেন, “ঈদের মধ্যে সবাই আলাদা বাজেট রাখছে চুলকে নিত্য নতুন ডিজাইনে কাটিং দিয়ে ভীন্ন মডেলে সাজানোর জন্য।”
এ সুযোগে সেলুন মালিকরা দাম বাড়িয়ে বেকায়দায় ফেলছেন সাধারণ মানুষদের।