হযরত মাওলানা মুহম্মদ আবুল বাশারঃ সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য।সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরাালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,”আমার প্রতি অধিক দুরুদ শরীফ পাঠকারী কিয়ামতের দিন আমার সর্বাধিক নিকটে সন্তুষ্টি মুবারক লাভ করবে”।(তিরমিযী শরীফ)সম্মানিত করআান শরীফের সূরা তওবা শরীফের ৬২ নং আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে একটা ঘটনা উল্লেখ করা হয় । যখন এই আয়াত শরীফ নাযিল হলো যে,নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে সন্তুষ্ট করতে হবে, তখন প্রধান ৪ হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে এসে আরজী করলেন,নূরে মুজাসসাম ইয়া রসূলাল্লাহ, হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরা জানতে পেরেছি, আমরা বুঝতে পেরেছি যে, মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পেতে হলে প্রথমে আপনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করতে হবে। সেজন্য আমরা চারজন এসেছি চারটি আরজু নিয়ে। আপনি দয়া করে আমাদের সেই চারটি আরজু যদি কবুল করতেন, তাহলে আমরা ইতমিনান লাভ করতে পারতাম।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা কি আরজু নিয়ে এসেছেন?প্রথমে আরজু পেশ করলেন মালাকুল মউত হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম। তিনি বললেন, নুরে মুজাসসাম ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার সন্তুষ্টি মুবারকের লক্ষ্যে আমি নিয়ত করেছি, আপনার যে উম্মত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা প্রতিদিন আপনার প্রতি দশবার পবিত্র সম্মানিত দুরুদ শরীফ পাঠ করবে, আমি এমনভাবে তার রুহ কবজ করবো যেমন আমি অতীতে হযরত নবী এবং রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রুহ মুবারক কবজ করেছি।
তখন নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরজু কবুল করলেন।সুবহানাল্লাহ!
দ্বিতীয়তঃ আসলেন হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম। তিনি বললেন নূরে মুজাসসাম ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি নিয়ত করেছি আপনার যে উম্মত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা প্রতিদিন আপনার প্রতি দশবার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে সেই কঠিন হাশরের দিন মানুষ যখন গুনাহ ফিকিরে পেরেশান থাকবে তখন আমি সিজদায় পড়ে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সুপারিশ করে তার জিন্দেগির সমস্ত গুনাহ-গুলি আমি ক্ষমা করিয়ে দিব ।
তখন নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই আরজু ও কবুল করলেন ।সুবহানাল্লাহ!এরপর তৃতীয়তঃ আসলেন হযরত মিকাইল আলাইহিস সালাম। তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি নিয়ত করেছি আপনার যে উম্মত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা প্রতিদিন আপনার প্রতি মাত্র দশবার সম্মানিত দুরুদ শরীফ পাঠ করবে, কঠিন হাশরের দিন মানুষ যখন পানির পিপাসায় হন্য হয়ে ঘুরতে থাকবে, হাউজে কাউছারের পানি ব্যতীত কোন পানি থাকবেনা, তখন আমি স্বয়ং নিজ হাতে হাউজে কাউছারের পানি নিয়ে তাকে পান করাবো।
সুবহানাল্লাহ! যে পানি পান করার পর জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত তার পিপাসা লাগবেনা৷
সুবহানাল্লাহ!তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই আরজুও কবুল করলেন।
সুবহানাল্লাহ!এরপর চতুর্থতঃ আসলেন হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম। তিনি বললেন,নুরে মুজাসসাম ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি নিয়ত করেছি আপনার যে উম্মত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা প্রতিদিন আপনার প্রতি মাত্র দশবার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে, আমি তাকে হাতে ধরে চোখের পলকে পুলছিরাত পার করে জান্নাতে পৌছিয়ে দিবো৷সুবহানাল্লাহ!
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই আরজুও কবুল করলেন।সুবহানাল্লাহ!
এর ফলশ্রুতিতে দাড়ালো, কোন ব্যক্তি যদি প্রতিদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মাত্র দশবার দুরুদ শরীফ পাঠ করে, তাকে চারটি বিশেষ মর্যাদা দান করা হবে। মূলত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির মূল।তাই উনার পবিত্র দুরুদ শরীফ সমস্ত ভালাইয়ের চাবিকাঠি। দুরুদ শরীফ ব্যতিত দুয়া কবুল হয় না, নামায কবুল হয় না। আবার দুরুদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে ভুলে যাওয়া বিষয় স্মরণ হয়, গুনাহ ক্ষমা হয়, রোগ ব্যাধি হতে শিফা লাভ হয়। সামগ্রিক ভাবে জীবনের প্রতিটি বিষয়ে দুরুদ শরীফ পাঠের কোন বিকল্প নেই।অতএব যামানার ইমাম ও মুযতাহিদ রাজারবাগ শরীফের হযরত মুজাদ্দিদে আযম মুরশিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার উসিলায় সম্মানিত দুরুদ শরীফের ফযিলত দান করুন।