দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আগামী ৬ জুন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। রাজধানী ইস্কাটনে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক সভা শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু।
তিনি বলেন, ‘আগামী ৬ জুন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ১৪ দল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বিকেলে একটি জনসভা করবে।
বৈঠকে জোটের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বাড়ায় উদ্বেগ জানায় ১৪ দল। এ সময় জোটের পক্ষ থেকে দ্রুত বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়।
আমু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব রকম চেষ্টা করছেন। আমাদের দেখতে হবে সরকার সচেতন কিনা, প্রচেষ্টা আছে কিনা। কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে থাকলে কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।’
বৈঠকে মার্কিন নতুন ভিসা নীতি নিয়ে বিষদ আলোচনা হয় বলে জানান ১৪ দল মুখপাত্র আমু। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি দুরভিসন্ধিমূলক । আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট মনে করে এ ভিসানীতি অনাকাঙ্ক্ষিত, যা কারও পক্ষে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কিন্তু আমরা মনে করি জাতি সংবিধানের প্রত্যেকটি প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখার জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আমরা একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো হস্তক্ষেপ আমরা কামনা করি না।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভিসানীতিকে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করি। আরেকটা কথা হলো এটাতো ১৪ দল। আওয়ামী লীগের মিটিং না। মনে রাখবেন। আমরা তো রাবার স্ট্যাম্প না। এখানে আরও ১৩টা দল আছে, সবাইতো আওয়ামী লীগ না, এটা আপনাকে মনে রাখতে হবে। এখানে কথা হচ্ছে ১৪ দল যেটা ফিল করে সেটাই বলবে। অন্য দল কে কি বলবে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমাদের আলোচনায় যেটা আসবে সেটা আমরা প্রকাশ করব।
আমরা মনে করি যারা নির্বাচনকে বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে বানচাল করতে চায়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের জন্য এটা সহায়ক হতে পারে। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা কথাগুলো বলতে চাই। এখানে যদি অন্য কোনো দেশের সন্দেহ থাকে, তাহলে তারা বসে এটা ঠিক করতে পারে যে, সংবিধানের ভেতরে কোথায় কোনো ফাঁকফোকর আছে, সেটা তারা বিবেচনা করুক। সেগুলো দেখুক, আলোচনা করুক। কিন্তু সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হতে হবে। দেশে এ ধারাটা অব্যাহত রাখার জন্য। সংবিধানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, অন্য কোনো উপায়ে আঘাত আসুক এটা আমরা চাই না।