অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ
কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ২০২৩ তারিখ বুধবার ঢাকাসহ সারাদেশে জেলা ও
উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বীমা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া
হয়েছে। এ বছরের বীমা দিবসের প্রতিপাদ্য “আমার জীবন আমার সম্পদ, বীমা করলে
থাকবে নিরাপদ”।
জাতীয় বীমা দিবস, ২০২৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত
থাকতে সানুগ্রহ সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মাননীয়
অর্থমন্ত্রী জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ
অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের
সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের
চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ জয়নুল বারী এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন
এর সভাপতি শেখ কবির হোসেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির
পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার সময়ে সর্বস্তরের
জনগণকে সংগঠিত করার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের এক সুদূরপ্রসারী
পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ১৯৬০ সালের ১ মার্চ তৎকালীন আলফা ইন্স্যুরেন্স
কোম্পানিতে এ অঞ্চলের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। তারিখটিকে স্মরণীয় করে
রাখার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১ মার্চ কে ‘জাতীয় বীমা দিবস’
হিসেবে ঘোষণা করেন।
স্বাধীনতার ৫২ বছরে দেশে বীমা কোম্পানির সংখ্যা এখন ৮১টি। এর মধ্যে লাইফ
বীমা কোম্পানি আছে ৩৫ টি। আর নন-লাইফ বীমা ৪৬টি। গেল কয়েক বছরে নানামুখী
সঙ্কটের মাঝেও জীবন বীমার তহবিল ও সাধারণ বীমার সম্পদ দুটোই বেড়েছে।
এমনকি ২০২১ সালে করোনা মহামারির সঙ্কটের মাঝে বিশ্বব্যাপী মোট বীমা
প্রিমিয়ামের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি যেখানে ৩ দশমিক ৪ ভাগে নেমে এসেছিল, সেখানে
বাংলাদেশে বীমা প্রিমিয়ামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৩ ভাগ, যা ২০২২ সালে বেড়ে
দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ০৪ ভাগ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষে গ্রস প্রিমিয়ামের পরিমান দাঁড়িয়েছে
১৬,৮১২.৬৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে লাইফ বীমার গ্রস প্রিমিয়ামের পরিমান
দাঁড়িয়েছে ১১,৩৯৯.৫১ কোটি টাকা। আর নন লাইফে এই পরিমান ৫,৪১৩.১৪ কোটি
টাকা। যা সংকটের এই সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় তারল্যের যোগান দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানির অর্জিত প্রিমিয়ামের ওপর ২০২২
সালে ১৩০৫.৭৩ কোটি টাকার ভ্যাট ও ট্যাক্স সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া
হয়েছে। বিগত বছরে লাইফ (৩০,২৮,৯৩০ টি) এবং নন-লাইফ (৩৩,৫৩৮ টি) বীমা
কোম্পানিসমূহে উত্থাপিত বীমা দাবির মোট সংখ্যা ৩০,৬২,৪৬৮ (ত্রিশ লক্ষ বাষট্টি
হাজার চারশত আটষট্টি) টি, তন্মধ্যে লাইফ (১৮,৯২,৯৯২ টি) এবং নন-লাইফ (১৯,
৮৭৭ টি) বীমা কোম্পানি সর্বমোট ১৯,১২,৮৬৯ (ঊনিশ লক্ষ বারো হাজার আটশত
ঊনষত্তরটি) টি বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে। বিগত বছরে বীমা দাবি অনাদায়ীর
পরিমাণ লাইফ (৪৫৬৭.১২ কোটি টাকা) এবং নন-লাইফ (১৯৯২,৬৯ কোটি টাকা) খাতে
মোট ৬৫৫৯.৮১ (ছয় হাজার পাঁচশত ঊনষাট দশমিক আট এক) কোটি টাকা।
একই সঙ্গে এই সময়ে দেশের অর্থনীতিতেও এই খাতের অবদান বেড়েছে। দেশে প্রায়
১ কোটি মানুষ বীমা সাথে সম্পৃক্ত এবং কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক লাখ মানুষের।
আর এই সাফল্যে বড় অবদান রেখেছে, এ খাতের নতুন নতুন সব জনবান্ধব ও
কল্যাণমুখী বীমা।
বীমা খাতে বিরাজমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনের উদ্দেশ্যে সরকারের
সাথে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ
কর্তৃপক্ষ। বীমা শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের উন্নত, সমৃদ্ধ, স্মার্ট
বাংলাদেশ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে আইডিআরএ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা
নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
বীমা খাতের উন্নয়নের জন্য ১১৮.৫০ কোটি টাকার সরকারি অর্থায়ন এবং
বিশ্বব্যাংক এর ৫১৩.৫০ কোটি টাকাসহ মোট ৬৩২.০০ কোটি টাকার অর্থায়নে
Bangladesh Insurance Sector Development Project (BISDP) প্রকল্পের
কাজ শুরু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, উক্ত প্রকল্পের সরকারি অর্থায়ন ১১৮.৫০ হতে
২৫ কোটি টাকা হ্রাস করা হয়েছে এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াতে প্রকল্পের মোট
ব্যয় ৬৩২.০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬৭২.০০ কোটি টাকা হয়েছে এবং
আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ
ইন্স্যুরেন্স একাডেমি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং জীবন বীমা কর্পোরেশনকে
পেশাদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়াও, বীমা
উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ Unified Messaging Platform (UMP) নামক
একটি প্রযুক্তি বিগত ২০১৯ সালে গ্রহণ করে। স্টেট-অব-দ্যা-আর্ট প্রযুক্তি
সম্পন্ন সর্বাধুনিক এ প্রযুক্তিটির মাধ্যমে গ্রাহকদের পরিচিতি, বীমা পলিসির
মেয়াদ, জমাকৃত প্রিমিয়ামের বিবরণ সহ প্রায় ২৭ ধরণের তথ্যাদি সংরক্ষণ করছে
যেগুলো ব্যবহার করে বিগত ২২ মার্চ ২০২০ থেকে বীমা গ্রাহকদেরকে সেবা প্রদান
করা হচ্ছে।
সর্বোপরি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী
শেখ হাসিনা বীমার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুরাতন বীমা আইনকে ঢেলে সাজিয়ে নতুন
বীমা আইন, ২০১০ প্রণয়ন করেন। পাশাপাশি প্রণয়ন করেন বীমা উন্নয়ন ও
নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০। এরপর বীমাখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২০১১
সালে অধিদপ্তর বিলুপ্ত করে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ
কর্তৃপক্ষ’। একইসাথে প্রণয়ন করেন কর্পোরেশন আইন, অন্যান্য বিধি ও
প্রবিধান, যা বীমা শিল্পের উত্তরোত্তর উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।