শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকারকে ঝামেলায় ফেলতেই পতিত দোসররা নাশকতাসহ ষড়যন্ত্র করছে: ফরিদপুরে-রুহুল কবীর রিজভী জন্মদিনে নতুন প্রাপ্তির গল্প, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী নাইমুজ ইনাম নাইম ইতিহাসের সেরা ফুটবলার দাবি রোনালদোর বগুড়ার সোনাতলায় নিখোঁজের তিনদিন পর এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু গাজীপুরের ড্রাগ ইন্টার ন্যাশনালের ওষুধ কারখানার আগুন সোয়া ৩ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২৯১০ মামলা বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এলপিজি নিয়ে জনগণকে জিম্মির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা : জ্বালানিমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন

  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ৮.৫৫ পিএম
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, তিনিই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশে ২২তম রাষ্ট্রপতি।

দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বেলা সাড়ে ১০টার কিছু পরে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতাদের সাথে করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আওয়ালের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে জানান, দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তেই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পেশায় একজন আইনজীবী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। তিনি ১৯৪৯ সালে পাবনায় জন্ম নেন। ইতিপূর্বে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালে পাবনা জেলা স্বাধীন বাংলা পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দীর্ঘ তিন বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ১৯৮২ সালে সাহাবুদ্দিন বিসিএস বিচার বিভাগে যোগ দেন। ৯৫ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত কোঅরডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন কমিশন সচিব জাহাংগীর আলম। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের জন্য মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের নামে দু’টি মনোনয়ন জমা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন দু’টি সোমবার যাচাই বাছাই করা হবে।

ইসি সচিব বলেন, দুটি মনোনয়ন পত্রের একটির প্রস্তাবক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং অন্যটি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ। দুটি মনোনয়নপত্র বাছাই হবে সোমবার। আর প্রত্যাহার শেষে রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছায় হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পেশায় একজন আইনজীবী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য। তিনি ১৯৪৯ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইতোপূর্বে জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ১৯৭১ সালে পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৯৫ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন।

তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতা কর্মীর দ্বারা সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠন  এবং মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের অনুসন্ধানে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও, তিনি ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন সংসদ সদস্যরা। সংসদে আওয়ামী লীগের সংখ্যা গরিষ্ঠতা থাকায় দলটি যাকে মনোনয়ন দেবে, তারই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ এপ্রিল।

গত ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। সে অনুযায়ী, রোববার ১২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিল, সোমবার বাছাই ও মঙ্গলবার প্রত্যাহারের দিন ঠিক হয়। আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি। তবে যেহেতু সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থী একজন, তাই ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com