শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকারকে ঝামেলায় ফেলতেই পতিত দোসররা নাশকতাসহ ষড়যন্ত্র করছে: ফরিদপুরে-রুহুল কবীর রিজভী জন্মদিনে নতুন প্রাপ্তির গল্প, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পী নাইমুজ ইনাম নাইম ইতিহাসের সেরা ফুটবলার দাবি রোনালদোর বগুড়ার সোনাতলায় নিখোঁজের তিনদিন পর এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু গাজীপুরের ড্রাগ ইন্টার ন্যাশনালের ওষুধ কারখানার আগুন সোয়া ৩ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২৯১০ মামলা বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এলপিজি নিয়ে জনগণকে জিম্মির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা : জ্বালানিমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিন : প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২, ৮.২৮ পিএম
  • ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার সকলের জন্য খেলাধুলা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি ফুটবল খেলোয়াড়দের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ খেলতে পারে।
‘কয়েকদিন আগে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে, তবে, বাংলাদেশ কোয়াালিফাই করতে পারেনি। আমি আশা করি বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে এবং তোমাদের (ফুটবলারদের) নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক অনূর্ধ্ব-১৭-২০২২ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালিকা অনূর্ধ্ব-১৭-২০২২এর রানার্সআপ ও চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে ট্রফি এবং পুরস্কার বিতরণকালে আজ প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ফুটবল টুর্নামেন্টে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫২ জন ছেলে ও মেয়ের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটি একটি বিস্ময়কর ঘটনা। আমি মনে করি, বিশ্বে এমন আর কোনো দেশ নেই যেখানে এত বিপুল সংখ্যক ফুটবলার এই ধরনের টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার সরকার  খেলাধুলায় মানুষকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দায়ি়ত্ব গ্রহণের পর থেকে আমাদের প্রচেষ্টা ছিল আমাদের সন্তানদের ফুটবল, ক্রিকেট এবং অন্যান্য খেলাধুলাকে আরও উৎসাহিত করা। আমাদের শিশুরা যত বেশি খেলাধুলায় নিজেকে নিয়োজিত করবে আমরা তত বেশি সুবিধা পাব।’
খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়নে তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য খেলাধুলা নিশ্চিত করা।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪০ জন ছেলে এবং ৪০ জন মেয়েকে তাদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) তিন মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, তার সরকারের প্রথম মেয়াদে ক্রিকেটে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা অর্জন করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ফুটবলের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছে এবং একই সঙ্গে নারীদেও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করছে।
বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৃণমূলের মেধাবীদের বের করে আনার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।
তিনি বলেন, তারা এমনকি বিশেষভাবে চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করেছে এবং তারা অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে এনেছে।
দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম এবং প্রতিটি জেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি একাডেমি নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ৫৬টি জেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করবেন, যার লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি খেলার ক্রীড়াবিদদের যথাযথ প্রশিক্ষণের সুবিধা প্রদান করা, কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের বিশ্বমানের ক্রীড়া মঞ্চে প্রতিদ্ব›িদ্ধতা করার সক্ষমতা রয়েছে।
এছাড়া তৃণমূলে খেলাধুলা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সারা দেশে সুইমিং পুল, শুটিং রেঞ্জ, কাবাডি ও ভলিবল  স্টেডিয়াম এবং স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন ব্যবস্থা করছি যাতে প্রতিটি জায়গায় সবাই খেলাধুলায় অংশ নিতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের পর তারা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদও গড়ে তুলেছেন।
শেখ হাসিনা ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সদস্য হিসেবে নিজেকে বর্ণনা করেন, কারণ তাঁর দাদা শেখ লুৎফুর রহমান, পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং দুই ভাই-শেখ জামাল ও শেখ কামাল ছিলেন ফুটবলার।

ক্রীড়া উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে বিভিন্ন জেলায় ১৮টি ক্রীড়া ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা ও ক্রীড়া পরিষদ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী রংপুর বিভাগ ও খুলনা বিভাগের মধ্যকার নারীদের ফাইনাল ফুটবল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা প্রত্যক্ষ করেন ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ন্যাশনাল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুর্ধ-১৭ বালক ফাইনাল ম্যাচে প্যানাল্টি শর্টে গোল করে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে খেলায় সমতা ফিরিয়ে এনে ১-১ গোলে ড্র করে সিলেট বিভাগ।
বালক পর্যায়ে সিলেট বিভাগের মো. সাইফুর রহমান ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট এবং একই বিভাগের মো. রাজু মিয়া ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। বরিশাল বিভাগের শাহাদৎ গাজী সেরা গোলদাতা এবং একই বিভাগের মো. রিয়াজ সেরা গোল কিপার হয়েছেন।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ন্যাশনাল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট বালিকা অনুর্ধ-১৭ তে ২-১ গোলে খুলনা বিভাগকে পরাজিত করে রংপুর বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
গার্লস ফুটবল টুর্ণামেন্টে রংপুর বিভাগের কাকলি ওমেন অব দ্য টুর্নামেন্ট এবং ফাইনাল ম্যাচে একই বিভাগের শান্তি মর্জি সেরা খেলোয়ার, নাসরিন সেরা গোলদাতা এবং শাম্মি আক্তার সেরা গোলকিপার নির্বচিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেসবাহ উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

বাসস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com