শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কাউখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ হরিণধারা-গোপালপুর সড়ক: খালের পেটে বিলীন হওয়ার পথে  গ্রামের যাতায়াতের মাধ্যম পূজায় আসছে মৌ খানের ‘স্নেহের বন্ধন’ মালিবাগে ‘কাচ্চি সরদার’-এর উদ্বোধন করলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জে কে শান্ত ইতালি পাঠানোর নামে মালয়েশিয়ায় পাচার ও অর্থ আত্মসাৎ: চক্রের হোতাসহ গ্রেফতার ২ যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। –বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জেএসএস চট্টগ্রাম মহানগরের অভিষেক প্রস্তুতি, কমিটি গঠন ও আলতাফ হোসেনের জন্মদিনে দোয়া কিশোরগ্যাং অভিযান লক্ষ্মীপুরে তিন দফায় আটক ৫৪৯, আদালতে ৮৯ ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিংয়ে আহত অভিনেতা ওমর মালিক ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’ আয়োজনে গাইবেন বন্যা, নাচবেন  শিবলী ও নীপা

অবৈধ অটোরিকশা আটকের পর ছেড়ে দিলেন মেয়র।

  • আপডেট সময় বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২, ৭.৪৫ পিএম
  • ১৯১ বার পড়া হয়েছে

দিলীপ কুমার দাস,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শহরে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সায় নাকাল পৌরবাসী। ফলে টাঙ্গাইল শহরে প্রতিনিয়ত দেখা দিচ্ছে যানজট। আর এ যানজট নিরসনে বিভিন্ন সময়ে পৌর কৃর্তপক্ষ লোক দেখানো ধরপাকরসহ নানা অভিযান করে থাকলেও কাজে আসছে না সাধারণ মানুষের। সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা ও জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় সকলের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয় শহরে যানজট নিরসনে অবৈধ যেসকল ব্যাটারি চালিত রিক্সা রয়েছে তা জব্দ করা। এরইধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল থেকে শহরে যানজট নিরসনে পৌরসভা কর্তৃক অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা আটক করে। তবে রিক্সা শ্রমিকরা এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ করেছে। পরে জেলা রিক্সা শ্রমিক ও ইজিবাইক সমিতির নেতাকর্মীরা টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রের সাথে আলোচনায় বসেন। আলোচনা শেষে মানবিক দিক বিবেচনায় ঈদের আগ পর্যন্ত শহরে অবৈধ অটোরিক্সা চলাচলের অনুমতি দেন এবং ঈদের পরে সকল অবৈধ অটোরিক্সার বৈধ কাগজপত্র না করা হলে পুনরায় রিক্সা গুলো জব্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর।

জানা যায়, সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা ও জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় সকলের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয় শহরে যানজট নিরসনে অবৈধ যেসকল ব্যাটারি চালিত রিক্সা রয়েছে তা জব্দ করা। এছাড়াও কয়েকদিন আগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় টানা তিনদিন অবৈধ রিক্সা বন্ধে মাইকিং করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন পৌরকর্তৃপক্ষ। এরইধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মেয়রের নির্দেশনায় প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা আটক করে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে রাখা হয়। এসময় রিক্সা চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে শহরের নিরালা মোড়, শহীদ মিনার ও পৌসভার সামনে বিক্ষোভ করে। পরে এ নিয়ে জেলা রিক্সা শ্রমিক ও ইজিবাইক সমিতির নেতাকর্মীরা মেয়রের সাথে বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনায় বসেন।

বিক্ষুদ্ধ কয়েকজনর রিক্সা চালক বলেন, পৌরসভার মেয়র ও অনান্য কর্মকর্তারা মিলে আমাদের কাছ থেকে জন প্রতি ২০ হাজার টাকা রিক্সার বৈধতা এবং লাইসেন্স বাবদ ৭ হাজার টাকা দাবি করেছে। আমরা গরিব মানুষ দিন আনি দিন খাই। আমাদের পক্ষে এতো টাকা দেওয়া সম্ভব না। আমরা দিন কাজ করে যা পাই তাই দিয়ে বাড়িতে খাবার নিয়ে যাই। এভাবে যদি আমাদের উপর অমানুসিক নির্যাতন করে তাহলে আমার কোথায় যাবো। এমপি ছোট মনিসহ আরো অনেকেই বলেছিল আমারা গরীব মানুষ। আমাদের যতটুকু কম খরচে কাগজপত্র ও লাইসেন্স দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করা। কিন্তু মেয়র ও তার লোকজন তা শুনছে না। আমরা টাকা দিতে পারি নাই বলে আজ আমাদের গাড়ি আটক করেছে। আর অন্য যারা অবৈধভাবে অটোরিক্সা চালাচ্ছে তাদের কেন আটক করছে না। তারা পৌরসভার লোকজনকে টাকা দেয় বলে তাদের গাড়ি ধরবে না। এটা আমরা মেনে নেবো না। প্রয়োজনে আন্দোলন করবো। এভাবে আমরা আর চলতে পারছি না।

এছাড়াও কয়েকজন রিক্সা চালক অভিযোগ করে বলেন, আমরা সকালে গাড়ি নিয়ে বের হই। আর রাস্তায় বের হলেই চিহ্নিত কিছু লোক জেলা রিক্সা শ্রমিক ও ইজিবাইক সমিতির কল্যাণ তহবিল নামে ২০ টাকা করে চাঁদা তুলেন। কিন্তু আমরা তো এ সমিতির অন্তভুক্ত না। তাহলে তারা কিভাবে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেয়। এ বিষয়ে জেলা রিক্সা শ্রমিক ও ইজিবাইক সমিতির উপদেষ্টা এডভোকেট আলী ইমাম তপন তেমন কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

রিক্সা আটকের ঘটনায় জেলা রিক্সা শ্রমিক ও ইজিবাইক সমিতির উপদেষ্টা এডভোকেট আলী ইমাম তপন বলেন, আজ সকালে রিক্সা শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আমাদের সংগঠনের কার্যালয়ে গিয়ে জানায় তাদের রিক্সা গুলো আটক করা হয়েছে। পৌরসভার মেয়রের নির্দেশনায় রিক্সা গুলো আটক করা হয়েছে। পরে আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে মেয়রের সাথে এ সমস্যার সমাধানের জন্য আলোচনা করি। এবং তিনি আমাদের জানিয়েছেন মানবিক দিক বিবেচনায় এই গরীব মানুষদের পরিবারের কথা চিন্তা করে ঈদ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ঈদের পরে যদি কোন রিক্সা অবৈধ থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, শহরের যানজট প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। আমি সর্বদা চেষ্ঠা করে যাচ্ছি শহরের যানজট নিরসন কিভাবে করা যায়। এ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যেসকল অবৈধ যানবাহন গুলো আছে তা জব্দ করা। পরবর্তীতে আমরা মাইকিং করেছি যাতে অবৈধ রিক্সা গুলো বৈধ করতে পারে। কিন্তু এতোকিছুর পরও তারা আমাদের কথা শুনেনি। তাই বাধ্য হয়ে এবং যানজট নিরসনে সকাল থেকে কিছু অটোরিক্সা আটক করা হয়। তবে তারা আমাদের নামে যে সকল অভিযোগ করেছেন তা সঠিক না। গত কয়েকদিনে অনেক অবৈধ অটোরিক্সা তাদের বৈধ কাগজপত্র করেছে। তারা যে টাকায় করেছে বাকিদেরও সেই পরিমান টাকায় করতে হবে। এখানে বাড়তি টাকা নেওয়ার কোন প্রশ্ন আসে না। তবে আমরা একটি একটি করে কাজ শুরু করেছি। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে, পৌরবাসী আমাদের সাথে থাকলে অবশ্যই সকল অবৈধ যানবাহন যেগুলো আছে তা জব্দ করা সম্ভব হবে। এবং যানজট মক্ত একটি পৌর শহর উপহার দিতে পারবো। তবে সামনে ঈদ। ঈদে গরীব মানুষরা যাতে চলতে পারে মানবিক দিক বিবেচনায় জেলা রিক্সা শ্রমিক ও ইজিবাইক সমিতির নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করেছি। যদি তাড়া আমাদের কথা শুনেন এবং নিয়ম নীতি রক্ষা করেন তাহলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এবং তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কাগজপত্র ও লাইসেন্স করে ফেলবে। তা না হলে ঈদের পর পুনরায় কঠোরভাবে অভৈধ ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা জব্দ করা হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com